সংবাদদাতা, বনগাঁ: স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি করা। পেট্রাপোল থানার জয়ন্তিপুরের বাসিন্দা সুমন হালদার ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি দেখে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী পদে আবেদন করেন। দিনরাত পড়াশোনা করে নিজেকে তৈরি করেন। পরীক্ষায় পাশও করেন। ডাক পরে ইন্টারভিউতে। মেরিট লিস্টে নাম ওঠে। আশায় বুক বাঁধতে থাকেন সুমন। কিন্তু চাকরি হয়নি। কিছুদিনের জন্য ভেঙে পড়েন। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন করে চলেছেন। সেদিন যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন আদালতের নির্দেশে সকলেই চাকরিহারা হয়েছেন। চাকরিহারার যন্ত্রণা না বুঝলেও চাকরি না পাওয়ার যন্ত্রণা বোঝেন সুমন। যদিও সুমনের কথায়, ‘ভাগ্যিস সেদিন চাকরিটা পাইনি। চাকরিটা পেলে সারাজীবন খোটা শুনতে হতো।’
পরীক্ষা দেওয়ার পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন সুমন। মেরিট তালিকায় নামও ওঠে। কিন্তু কাউন্সিলিংয়ে ডাক না পাওয়ায় আশঙ্কা বাসা বাঁধে মনে। মাঝেমধ্যে অনলাইনে ওয়েটিং লিস্টে নিজের নাম দেখতেন। একদিন দেখেন সার্ভারে নাম দেখাচ্ছে না। সুমন বুঝতে পারেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ। স্বপ্ন দেখা থেমে যায় তাঁর। সুমন বলেন, ‘পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। আশা করেছিলাম ৪০ থেকে ৪১ নম্বর পাব। জানি না কত পেয়েছিলাম। নিজের নম্বর কোনওদিন জানতে পারিনি। তালিকায় আমার আগে পরে কত জন ছিলেন তাও জানতে পারিনি।’
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভাল ছিলেন সুমন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করেন। ভর্তি হন বনগাঁ কলেজে। এরই মধ্যে আইটিআই কোর্সে ভর্তি হবার জন্য পড়াশোনা করতে থাকেন তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেয়ে যান। কিন্তু সরকারি চাকরির পরীক্ষায় পাশ করায় আইটিআই পড়তে যাওয়া হয়নি তাঁর। চাকরিটাও পাননি সুমন। চাকরি না পেলেও এখন আর তাঁর দুঃখ নেই। সুমন বলেন, পেয়ে হারলে বেশি দুঃখ লাগত। এখন সম্মান নিয়ে বেঁচে আছি।’ তাঁর মতে, স্বচ্ছভাবে চাকরি হলে চাকরি পেতাম।