নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৯ আগস্ট, ২০২৩। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর। সেই ঘটনায় র্যাগিং ও খুনের অভিযোগ করেন তাঁর বাবা রামপ্রসাদ কুণ্ডু। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন রানাঘাটের বাসিন্দা রামপ্রসাদবাবু। ফের দেড় বছরের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় সরব হলেন স্বপ্নদীপের বাবা। তাঁর দাবি, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় উচ্ছৃঙ্খলতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শনিবারের ঘটনার নেপথ্যে চরমভাবে রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে। তার জেরেই এই ঘটনা। ছাত্রছাত্রীরা রাজনৈতিক চরমভাবাপন্ন হয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
Advertisement
এদিনের ঘটনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুত্রশোকে শব্দ জড়িয়ে যায় রামপ্রসাদবাবুর। তাঁর কথায়, ‘আমার ছেলেটাকে ১৮ বছর ধরে তিলে তিলে বড় করেছিলাম। যাদবপুর থেকে ডক্টরেট করবে বলে কত আশা করেছিল সে। কিন্তু, ৯ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে আমার ছেলেটাকে উলঙ্গ করে অত্যাচার করেছিল আবাসিক পড়ুয়ারা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রাক্তনীও ছিল। হস্টেলে তো তাঁদের থাকারই কথা নয়। অথচ দিনের পর দিন তাঁরা অবাধে থাকছেন। সেখানেই কর্তৃপক্ষের দায় ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না কর্তৃপক্ষ।’ প্রতিষ্ঠানের ভিতর খোদ মন্ত্রী এবং শিক্ষকরা আক্রান্ত হলে সেখানে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তাটা কোথায়—প্রশ্ন তোলেন মৃত ছাত্রের বাবা। তাঁর কথায়, ‘যাদবপুরের পরিস্থিতি আছে, যাদবপুরেই। একটুও বদল হয়নি।’



