শান্তনু মৈত্র: গল্প বলতেন শ্যাম বেনেগাল। চমৎকার সেসব গল্প। কেমন মিউজিক হতে পারে, তার একটা ধাঁচ বলতেন। তারপর বলতেন, তুমি কিছু একটা বানিয়ে শোনাও। তোমার সুর শুনে আমি কীভাবে করব, তার ধারণা তৈরি হবে। এর মতো স্বাধীনতা আর হয় না। কয়েকদিন আগে শ্যামজির নব্বইতম জন্মদিনে শেষ কথা হয়েছিল। ওঁর ডায়ালিসিস চলছিল। বললেন, শান্তনু আমি ফিরে আসি, তারপর নতুন কাজ শুরু করতে হবে। সব সময় পজিটিভ কথা বলতেন। অসাধারণ এক শিল্পীকে হারালাম আমরা। রুচিশীল সিনেমা কীভাবে করতে হয়, আমাদের শিখিয়ে গেলেন। শ্যাম বেনেগালের শেষ চারটে কাজ, ‘মুজিব’ পর্যন্ত ওঁর সঙ্গে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। অসাধারণ মানুষ ছিলেন। প্রচুর পড়াশোনা করতেন। ওঁর সঙ্গে কাজ করে এত কিছু জানার, শেখার সুযোগ হয়েছিল, সেগুলো মনে থাকবে। পৃথিবীর এমন কোনও বিষয় নেই, যা নিয়ে উনি পড়াশোনা করেননি। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিতেন। শ্যামজি ঘরে বসে থাকলে চুপ করে ওঁর কথা শুনতাম। তখন আমি নীরব শ্রোতা। এমন সব গল্প ছিল ওঁর ভান্ডারে, শুনে অবাক লাগত। স্মিতা পাতিল, শাবানা আজমি, নাসিরউদ্দিন শাহ- কত মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন। এত বছরের সিনেমার অভিজ্ঞতা। ওঁর দেখার চোখ ছিল সাংঘাতিক। শ্যামজির মধ্যে জানার, শেখার ইচ্ছে ছিল প্রবল। নতুন প্রজন্ম কী ভাবছে, বুঝতে চাইতেন।



