Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘অভিভাবকহীন’ হতে চলেছে ডব্লুবিসিএস  অ্যাসোসিয়েশন, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চর্চা

‘অভিভাবকহীন’ হতে চলেছে ডব্লুবিসিএস  অ্যাসোসিয়েশন, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চর্চা
  • ৪ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে রয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্লুবিসিএস) অফিসাররা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জেলা প্রশাসন থেকে নবান্নের শীর্ষ স্তর—সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছেন এই ক্যাডারের আমলারা। সংশ্লিষ্ট প্রায় দেড় হাজার অফিসারকে নিয়ে রাজ্য স্তরে ডব্লুবিসিএস অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। এই ক্যাডার থেকে মূলত কর্মরত অফিসারদের চাকরি সংক্রান্ত ভালো-মন্দ দেখাশুনো করে এই সংগঠন। কিন্তু আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ‘অভিভাবকহীন’ হতে চলেছে ডব্লুবিসিএস অ্যাসোসিয়েশন! কারণ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের পদোন্নতি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে (সিএমও) কর্মরত এই ডব্লুবিসিএস অফিসার প্রোমোশন পেয়ে ‘প্রোমোটি আইএএস’ অফিসার হতে চলেছেন। ক্যাডার পরিবর্তন হওয়ায় নীতিগতভাবে তিনি আর ওই পদে থাকতে পারবেন না। শনিবার সল্টলেকের এক সরকারি ভবনে শান্তনুবাবুকে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর সতীর্থরা। সূত্রের দাবি, অস্থায়ীভাবে শান্তনুবাবুর জায়গায় এগজিকিউটিভ কমিটির কোনও এক সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আগামী দুর্গাপুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় পরবর্তী ‘মনোনীত’ সাধারণ সম্পাদকের নাম চূড়ান্ত হতে পারে। 
Advertisement
ডব্লুবিসিএস অফিসারদের একাংশের অভিযোগ, পরিবর্তনের জমানায় অ্যাসোসিয়েশন ‘কার্যত নিষ্ক্রিয়’ হয়ে রয়েছে। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংস্রব না-থাকলে ট্রান্সফার-পোস্টিংসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে অসংখ্য অফিসার বঞ্চিত হচ্ছেন। যোগ্যদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রেখে অদৃশ্য জাদুবলে কিছু ডব্লুবিসিএস অফিসার বছরের পর বছর লোভনীয় জায়গা আঁকড়ে আছেন। অনেক অফিসার কর্মজীবনের অধিকাংশকাল জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত তরুণ কিছু ডব্লুবিসিএস অফিসার থেকে যাচ্ছেন খোদ সচিবালয়ে কিংবা কলকাতায়। জেলায় কর্মরত এক অভিজ্ঞ ডব্লুবিসিএস অফিসারের কথায়, অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন (প্রয়াত) সাধারণ সম্পাদক শেষবারের জন্য ‘নির্বাচিত’ হয়েছিলেন। তারপর থেকে ‘নবান্নের প্রভুদের’ ঠিক করে দেওয়া ব্যক্তিই বছরের পর বছর ‘মনোনীত’ হয়ে ওই পদে থেকে গিয়েছেন। শেষ দু’জন অফিসারই সিএমও’তে পোস্টিং। স্বভাবতই তাঁদের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গোটা ডব্লুবিসিএস মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই হতশ্রী দশা কেবল আমাদের ক্যাডারের নয়—আইএএস, আইপিএস কিংবা সাধারণ কর্মী সংগঠনগুলিও ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখেই ধরা পড়ছে সেই হতাশার সুর।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ