Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘নেটওয়ার্ক’ চাঙ্গা করতে লকডাউন পর্বকে বেছে নিয়েছিল এবিটি জঙ্গি নুর

‘নেটওয়ার্ক’ চাঙ্গা করতে লকডাউন পর্বকে বেছে নিয়েছিল এবিটি জঙ্গি নুর
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জঙ্গি নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্য লকডাউনের সময়কে বেছে নিয়েছিল আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ নুর ইসলাম। ওই সময়ে সে মুর্শিদাবাদে ‘দাওয়াত’ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খারিজি মাদ্রাসায় আইইডি তৈরি শেখাচ্ছিল। নুরকে জোর করে এমনই তথ্য পেয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ। এদিকে হেফাজতে থাকা নুর-সহ ছয় এবিটি জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতের অনুমতি নিয়ে  ইউএপিএ ধারা যুক্ত করেছে এসটিএফ।
Advertisement
অসম এসটিএফের হাতে মাস দুই আগে ধরা পড়ে এবিটি জঙ্গি শাদ রবি, নুর, আমিনুল ইসলাম-সহ অনেকে। মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আমিনুল ও সাদ্দামকে। পরে বেঙ্গল এসটিএফ আরও দু’জনকে এই জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে। জেরার জন্য বেঙ্গল এসটিএফ নুর, শাদ রবি-সহ চারজনকে নিজ হেফাজতে নিয়েছে। নুরকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর শিমুলিয়া মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে সে চলে যায় অসমে। সেখানে চিরাং জেলায় ধরা পড়ে নুর। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে অসমে বসেই এবিটির হয়ে কাজ করছিল সে।
তদন্তে প্রকাশ, ২০২০-র মার্চে নুর মুর্শিদাবাদে আসে। লকডাউন শুরু হলে ওই সময়টাকে সে ভালোভাবে কাজে লাগায়। জেরায় নুর আরও জানিয়েছে, ওইসময় জঙ্গি কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে অনেকটাই ঢিলেমি ছিল। ওই মওকায় মুর্শিদাবাদে ছোট ছোট গ্রুপ বানিয়ে বিভিন্ন জনের বাড়িতে ১৮-২৫ বর্ষীয় তরুণদের মগজ ধোলাই করত সে। ‘দাওয়াত’ দিয়ে সংগঠনে ভেড়ানো হয় তাদের। বিভিন্ন এজেন্সির নজরদারি কম থাকায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে একাধিক প্রোফাইল খুলে ফেলে নুর। সেখানে এবিটির হয়ে প্রচার চালানোর সঙ্গে নতুন নিয়োগও চলছিল। মুর্শিদাবাদে বসেই, এবিটি প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানির সঙ্গে নুর ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। লকডাউনের সময় তাদের নেটওয়ার্ক যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 
নুরকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওইসময় মুর্শিদাবাদে বিভিন্ন বাড়িতে সে একাধিক খারিজি মাদ্রাসা তৈরি করে। সেখানে জেহাদি শিক্ষাদানের কাজ চলত। এবিটি প্রধান ভিডিও কলে হাজির থেকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখত। একইসঙ্গে নুর খারিজি মাদ্রাসাগুলিতে বিস্ফোরক তৈরি শেখাত সেখানে সমবেত তরুণদের। লকডাউন পরবর্তীকালে নুর ফের অসমে ফিরে যায়। কিন্তু বাংলায় সংগঠন বৃদ্ধির জন্য নুর বারবার আসছিল। লকডাউন পর্বে তার কাছে জেহাদি শিক্ষাপ্রাপ্ত তরুণরা এখন কোথায় সক্রিয়? ধৃতকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ