নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুই মালিক সহ পরিবারের তিন সদস্য হাসপাতালে শয্যাশায়ী। বাড়ির দুই বধূ ও এক মেয়ে খুন হয়েছেন। ট্যাংরার শীলপাড়ার দে বাড়ির অদূরে তাঁদের কারখানায় ঝুলছে বিরাট তালা। কারখানাটি ভাড়ায় নিয়েছিল দে’রা। বন্ধ কারখানার গেটের বাইরে নেমপ্লেটে লেখা ‘প্রোটেক্টিভ লেদার গ্লাভস প্রাইভেট লিমিটেড’। শীল পাড়াতেই একটি বড় কমপ্লেক্সের ভিতরে দে বাড়ির ওই কারখানা। আশপাশের স্থানীয়রা বলছিলেন, মাল রপ্তানি পুজোর পর থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত কাঁচামালের সরবরাহ ছিল অব্যাহত। তাঁদের কথায়, ব্যবসা যে লোকসানে চলছে, তা কখনওই বোঝা যায়নি। কর্মরত কর্মচারীরা বলছিলেন, খুবই ভালো ব্যবহার ছিল মালিকদের। কর্মীদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। তবে মাইনে সঠিক সময় দিয়ে দিতেন। এমনকী পুজোর বোনাসও দিয়েছিলেন। তবে তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, পুজোর পর থেকে রপ্তানি একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাঁচামাল আসত। মঙ্গলবারও সেই কাঁচামাল দিয়ে কারখানায় উৎপাদনও হয়েছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে খবর, মেক্সিকোতে গ্লাভস রপ্তানি করে প্রতারণার শিকার হয় এই সংস্থা। জানা গিয়েছে, বকেয়া পাওয়ার আশায় আরও ২-৩টি কনসাইনমেন্ট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ভাবেই টাকা পাওয়া যায়নি। উল্টে রপ্তানি করা দ্রব্য খারাপ বলে জানানো হয়েছিল। এভাবেই প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা দেনা হয়ে যায় বাজারে। স্থানীয় সূত্রে খবর, কারখানায় গ্লাভস তৈরির কাজ চলত। প্রচুর স্টক জমে গিয়েছিল। ওই কারখানার দীর্ঘদিনের কর্মী ঝন্টু সাধুখাঁ বলছিলেন, ‘আমাদের মজুরি সপ্তাহান্তে সঠিক সময়েই দেওয়া হতো। মাসিক মাইনে গত মাসে দেরিতে হয়েছে। তবে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে সঠিক সময়েই মাইনে হয়েছে। শুনেছিলাম, ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু মালিকদের তরফে বলা হয়েছিল, সমস্যা মিটে যাবে।’
কারখানার কর্মীদের কথায়, শুনেছিলাম একবার রাশিয়াতে অনেক টাকার কনসাইনমেন্ট গিয়েছিল। সেটাও ফেরত চলে আসে। তখন থেকে সমস্যা চলছিল। পুলিস সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি কনসাইনমেন্ট রাশিয়াতে গিয়েছিল। সেই কনসাইনমেন্টও ফিরে আসে। নিজেদের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকাও তুলেছিলেন দে ভ্রাতৃদ্বয়। যদিও স্থানীয়দের বক্তব্য, দেখে কখনওই বোঝা যেত না টাকা-পয়সার সমস্যা চলছে। বড় করে বিশ্বকর্মা পুজো হতো। এখন ওই পরিবারের বিপর্যয়ের খবর আসতেই কারখানার কর্মী-নিরাপত্তা রক্ষীরা সকলেই তালা দিয়ে চলে গিয়েছেন।
কারখানার কর্মীদের কথায়, শুনেছিলাম একবার রাশিয়াতে অনেক টাকার কনসাইনমেন্ট গিয়েছিল। সেটাও ফেরত চলে আসে। তখন থেকে সমস্যা চলছিল। পুলিস সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি কনসাইনমেন্ট রাশিয়াতে গিয়েছিল। সেই কনসাইনমেন্টও ফিরে আসে। নিজেদের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকাও তুলেছিলেন দে ভ্রাতৃদ্বয়। যদিও স্থানীয়দের বক্তব্য, দেখে কখনওই বোঝা যেত না টাকা-পয়সার সমস্যা চলছে। বড় করে বিশ্বকর্মা পুজো হতো। এখন ওই পরিবারের বিপর্যয়ের খবর আসতেই কারখানার কর্মী-নিরাপত্তা রক্ষীরা সকলেই তালা দিয়ে চলে গিয়েছেন।



