Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘কোন কোর্ট, সেটা স্থির করুন’, অভয়ার বাবা-মাকে ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট

‘কোন কোর্ট, সেটা স্থির করুন’, অভয়ার বাবা-মাকে ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শিয়ালদহ নিম্ন আদালতের রায়ের আগেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল মামলা। এখন রায়দান হয়ে গিয়েছে। তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টেও জমা পড়েছে আবেদন। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আর জি কর কাণ্ডে বুধবার অভয়ার বাবা-মায়ের আর্জি ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রত্যাহার করানো হল মামলা। আর শীর্ষ আদালত তাঁদের আইনজীবীর কাছে স্পষ্ট জানতে চাইল, ‘সুপ্রিম কোর্টে মামলা বন্ধ করে কি হাইকোর্টেই শুনানি চান? সেটা স্থির করুন।’ কারণ, কলকাতা হাইকোর্টেও একইরকম মামলা রয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি তার শুনানি। তবে অভয়ার পরিবার মনে করলে নতুন করে আবেদনের পথ খুলেই রাখল সুপ্রিম কোর্ট। 
Advertisement
আর জি করের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত ঠিক মতো হচ্ছে না। এমনই বক্তব্য মৃতার বাবা-মায়ের। তাঁদের অভিযোগ, সিবিআইয়ের গাফিলতিতেই দুই ব্যক্তি (সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল) জামিন পেয়েছেন। কিন্তু দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এদিন শুনানির গোড়াতেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই আবেদন অহেতুক সাজাপ্রাপ্তকে তার পক্ষে সওয়ালে সাহায্য করবে। ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি সঞ্জয় কুমারকে পাশে নিয়ে প্রধান বিচারপতি অভয়ার বাবা-মায়ের আইনজীবী করুণা নন্দীকে বলেন, ‘আপনাদের যা আবেদন, তার ফল কী হতে পারে আন্দাজ করতে পারছেন? বি কেয়ারফুল। আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না। তাই বলছি, মামলা প্রত্যাহার করবেন কি না, ঠিক করুন।’ 
করুণা বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহার করছি। তবে নতুন করে আবেদন করার অনুমতি দিন। দু’দিনের মধ্যে আবেদন করব।’ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘অহেতুক এই মামলায় আদতে অভিযুক্তদেরই সাহায্য করা হবে। অভয়ার উপর অবিচার হবে।’ প্রধান বিচারপতি জানতে চান, ‘কলকাতা হাইকোর্টেও কি মামলা চলছে? কবে শুনানি?’ জানানো হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি। ‘তাহলে কি এখানে মামলা চালাবেন, নাকি কলকাতা হাইকোর্টেই শুনানির অপেক্ষায় থাকা আবেদনে জোর দেবেন?’ জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। তারপরও অবশ্য অভয়ার পরিবার নতুন করে আবেদনেই অটল থাকে। তাতেই প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘এমনভাবে আবেদন করবেন, যার অপব্যহার না হয়।’ 
অন্যদিকে, আর জি কর কাণ্ডে বিক্ষোভের জেরে চিকিৎসকদের একাংশের ছুটি কেটে নেওয়ার ঘটনায় নয়াদিল্লি এইমসের বিরুদ্ধেই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। কল্যাণী বা গোরক্ষপুর এইমস, পিজিআই চণ্ডীগড়—কোনও প্রতিষ্ঠানই বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের ছুটি কাটেনি। অথচ, নয়াদিল্লি এইমস ১০ দিন ছুটি কেটে নিয়েছে। বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রতিবাদকারীরা ‘ডিউটি’ করেননি বলেই উল্লেখ করেছে এইমস কর্তৃপক্ষ। তাই এইমস নয়াদিল্লিকে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, ‘ওঁদের ছুটি কাটা চলবে না। নেওয়া যাবে না কোনও কড়া ব্যবস্থা। ওই ১০দিন চিকিৎসকরা ডিউটিতে ছিলেন বলেই ধার্য হবে।’ যদিও এই নির্দেশকে কোনওভাবেই অন্য সময় বিক্ষোভের ‘উদাহরণ’ হিসেবে অস্ত্র করা যাবে না বলে স্পষ্ট করে দেন প্রধান বিচারপতি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ