Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘জয় বাংলা’ আর জাতীয় স্লোগান নয়, মুজিবকে মুছে দিতে মরিয়া নতুন বাংলাদেশ

‘জয় বাংলা’ আর জাতীয় স্লোগান নয়, মুজিবকে মুছে দিতে মরিয়া নতুন বাংলাদেশ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ। স্বাধীনতার আহ্বান শেষে স্লোগান দিলেন বঙ্গবন্ধু—‘জয় বাংলা’। দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়ল গোটা পূর্ববঙ্গে। এই স্লোগানে ভর করেই পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতা। সোনালি সেই অতীতে এবার বর্তমানের কালো ছায়া। মুজিবের ‘জয় বাংলা’ আর পদ্মাপারের জাতীয় স্লোগান নয়। মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়ে জারি হল ‘সুপ্রিম’ স্থগিতাদেশ। বঙ্গবন্ধুকে মুছে দিতে মরিয়া নতুন বাংলাদেশ!
Advertisement
‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করতে হবে—এই আবেদন নিয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী বশির আহমেদ। তিন বছর পর সেই আবেদনে সম্মতি জানায় উচ্চ আদালত। ২০২২ সালে নোটিস জারি করে সেই মতো পদক্ষেপ নেয় শেখ হাসিনা প্রশাসন। কিন্তু তাঁর গদি উল্টোতেই বিপদে পড়ে মুজিবের স্লোগানের ‘জাতীয়’ তকমা। সেই মর্যাদা কেড়ে নিতে চলতি ডিসেম্বরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এদিন সেই আর্জিতে সিলমোহর পড়ল। এদিনের শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক হক যুক্তি দেন, বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীকের কথা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় স্লোগানের কোনও উল্লেখ নেই। এই বিষয়টি আদালতের বিচার্য হতে পারে না। এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদই। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে। ফলে বঙ্গবন্ধুর ‘জয় বাংলা’ আপাতত আর জাতীয় স্লোগান রইল না।
১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় প্রথম ‘জয় বাংলা’ শব্দবন্ধের উল্লেখ মেলে। যদিও তার প্রেক্ষিত ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাত ধরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। সাতের দশকের শুরু থেকেই পাকিস্তান বিরোধিতার সুর চড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে বাড়তে থাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ব্যবহার। কিন্তু মুজিবের ভাষণের পর তা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে সারা পূর্ব পাকিস্তানে। সেই স্লোগান মুছে দেওয়ারই প্রক্রিয়া শুরু হল বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য ধানমণ্ডির বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও মুজিবের একাধিক মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়। সম্প্রতি সরকার জানিয়েছে, পদ্মাপারে টাকার নতুন নোট নিয়ে আসা হবে। তাতেও আর থাকছে না বঙ্গবন্ধুর ছবি। সব মিলিয়ে বেশ বোঝা যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বাংলাদেশে আর বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে না পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদীরা।
সম্পর্কিত সংবাদ