Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘গেরুয়াধারী মুখ্যমন্ত্রী সাধু নন’, নাম না করে যোগীকে আক্রমণ কুম্ভ আহ্বায়কের

‘গেরুয়াধারী মুখ্যমন্ত্রী সাধু নন’, নাম না করে যোগীকে আক্রমণ কুম্ভ আহ্বায়কের
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মেলানোর ক্রমবর্ধমান প্রবণতার তীব্র নিন্দা করলেন কুম্ভের শ্রী পঞ্চায়েতি মহানির্বাণী আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী পরমাত্মানন্দজি। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। একধাপ এগিয়ে তাঁর মন্তব্য—‘স্পষ্ট কথা বলা দরকার। গেরুয়া পোশাক পরে যে বা যাঁরা বিধানসভা, লোকসভায় জনপ্রতিনিধি হয়েছেন বা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বসে আছেন, তাঁদের আর নিজেকে সাধু না বলাই ভালো! সাধু পরিচয়কে কেউ যদি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেন, সেটা শাস্ত্রের বিরুদ্ধে।’ কুম্ভমেলার অন্যতম আয়োজক মহানির্বাণী আখড়ার এই সাধু কারও নাম না করলেও, তাঁর ‘ধর্মবাণ’ যে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেই বিঁধছে, তা মানছে ওয়াকিবহাল মহল। পূর্ণকুম্ভ ঘিরে গেরুয়া পার্টি যেভাবে নিজেদের প্রচারে নেমেছে, সেই আবর্তে স্বামী পরমাত্মানন্দের এহেন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কল্যাণীর মাঝেরচর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ঘাটে চলা ‘বঙ্গ কুম্ভমেলা’য় শাহি স্নানে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার এসেছিলেন মহামণ্ডলেশ্বর। এদিন ভোর ৪টে থেকে শুরু হওয়া স্নানপর্বে অংশ নেন হাজার হাজার ভক্ত। শোভাযাত্রা সহকারে সেখানে পৌঁছন স্বামী পরমাত্মানন্দ। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বঙ্গ কুম্ভমেলা। এই মেলা ও স্নানপর্বের সাফল্য কামনা করে ইতিমধ্যেই উদ্যোক্তাদের বার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন—‘আমি নিজে বঙ্গ কুম্ভমেলায় উপস্থিত থাকতে পারলে খুশি হতাম। কিন্তু আমি চাই, তীর্থযাত্রীরা যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন না হন। মেলার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানাই।’ প্রসঙ্গত, হুগলির ত্রিবেণী এবং কল্যাণীর মহাপ্রভু ঘাটে মিনি কুম্ভমেলা চলছে। ইতিমধ্যেই ত্রিবেণীতে স্নান সেরেছেন লক্ষাধিক পুণ্যার্থী। জমজমাট কল্যাণীও। 
Advertisement
শাহি স্নানপর্ব শেষে এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন মহামণ্ডলেশ্বর। গঙ্গাসাগর মেলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে কটাক্ষবাণে বিঁধেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘নিজেদের সনাতনী বলব, অথচ গঙ্গাসাগরের মতো প্রাচীন সনাতনী মেলাকে জাতীয় স্বীকৃতি দেব না? এটা তো দ্বিচারিতা! কেন্দ্র কেন বঞ্চনা করছে, সেটাই বড় প্রশ্ন!’ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন মমতা। বিষয়টি নিয়ে বারবার দরবার করলেও, ভ্রূক্ষেপ করেনি কেন্দ্র। এমনকী পুরীর শঙ্করাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দজিও গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। 
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এদিন স্বামী পরমাত্মানন্দ বলেন, ‘গঙ্গাসাগরের কথা ভেবে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য রাজ্য বাজেটে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটা গঙ্গাসাগর যাত্রাকে আরও সুরক্ষিত করবে। কেন্দ্রের এর থেকে শেখা উচিত। এবার এক কোটিরও বেশি মানুষ মেলায় এসেছিলেন, তাই সেতুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘প্রায় পাঁচ কিমি লম্বা গঙ্গাসাগরে সেতু নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারেরও উচিত সহযোগিতা করা।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ