Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

‘চার বাংলা’ মন্দির

রানি ভবানী—পূর্ব বাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) রাজশাহীর ছাতিম গ্রামের আত্মারাম চৌধুরীর মেয়ে। রানি ভবানীর বিয়ে হয়েছিল রাজশাহীর (নাটোর) জমিদার রাজা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে। তাঁর মৃত্যুর পর জমিদারের রাশ নিজের মুঠোয় নেন রানি ভবানী (১৭১৬-১৭৯৫)।

‘চার বাংলা’ মন্দির
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
রানি ভবানী—পূর্ব বাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) রাজশাহীর ছাতিম গ্রামের আত্মারাম চৌধুরীর মেয়ে। রানি ভবানীর বিয়ে হয়েছিল রাজশাহীর (নাটোর) জমিদার রাজা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে। তাঁর মৃত্যুর পর জমিদারের রাশ নিজের মুঠোয় নেন রানি ভবানী (১৭১৬-১৭৯৫)। মাত্র ৩২ বছর বয়সে বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন তিনি। সাফল্যের সঙ্গে তার দেখভালও করেন। সেই সময়ে নাটোরের জমিদারের আয় ও প্রতিপত্তিই ছিল ঈর্ষণীয়। নানা সৎকার্যে বিপুল খরচ এবং দান-ধ্যানও করা হতো তাঁর জমিদারির তরফে। মুর্শিদাবাদে ভাগীরথী নদীর তীরে বড়নগর গ্রাম ছিল রানি ভবানীর অত্যন্ত প্রিয়। শেষ জীবনে বেশিরভাগ সময় তিনি কাটান এখানেই। শোনা যায়, বড়নগরকে তিনি ‘মুর্শিদাবাদের বারাণসী’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই, তাঁর উদ্যোগে সেখানে ছোট-বড় শতাধিক মন্দির গড়ে ওঠে। যার মধ্যে অন্যতম ‘চার বাংলা’ মন্দিরগুচ্ছ। 
Advertisement
এখানে স্বল্প পরিসরের মধ্যে গড়ে ওঠা দোচালা মন্দির আজও রানি ভবানীর অনন্য কীর্তি হিসেবে রয়ে গিয়েছে। মন্দিরের গায়ে নানা ধরনের কারুকার্য আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম— চারদিকে ছড়িয়ে থাকা মন্দিরগুলি তৈরি হয়েছে বিশেষ শৈলী মেনেই। এর মধ্যে উত্তর দিকের মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি একটি উঁচু বেদির উপরে অবস্থিত। মন্দিরের সামনের প্রবেশ পথটি তিনটি খিলানযুক্ত। মন্দিরটির সামনে এবং পূর্বদিকের দেওয়াল সাজানো টেরাকোটার নানা রকমের অলঙ্কারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য  টেরাকোটার বহু ফলক বর্তমানে ভগ্নপ্রায়। সেখানে সযত্নে খোদাই করা রয়েছে রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের নানা কাহিনী। কৃষ্ণলীলার একাধিক ঘটনা এবং তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন বিষয়ও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরের পূর্ব দিকের দেওয়ালে রয়েছে শিবের একটি মূর্তি। বিগ্রহের পাশে স্থান পেয়েছে তাঁর দুই অনুচর নন্দী-ভৃঙ্গি। চার দেওয়ালের কোণায় শোভা পাচ্ছে টেরাকোটার মোট আটটি মূর্তি। মন্দিরের কার্নিসের নীচে একাধিক দেবদেবীর মূর্তির মধ্যে অন্যতম মহিষাসুরমর্দিনী ও মা কালীর মূর্তি। আর, মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে তিনটি শিবলিঙ্গ। আজও যা পর্যটকদের নজর কাড়ে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ