নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রথমে ভ্যান, তারপর ট্যাক্সি। নীল রঙের স্ট্রলিব্যাগে সুমিতা ঘোষের দেহ প্যাকিং করে নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরয় মা-মেয়ে। সেই ব্যাগ নিয়ে দক্ষিণ বীরেশপল্লির গীতশ্রী মোড়ে একটি ভ্যানে ওঠে মা আরতি ঘোষ ও মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষ। বড় একটি ব্যাগ সঙ্গে থাকার জন্য ১৩০ টাকা ভাড়া ঠিক হয়। ভ্যানচালক হারাধন হালদার ভেবেছিলেন, তারা হয়তো কোথাও বেড়াতে যাবে। খুব সকালে ট্রেন আছে। মা-মেয়েকে দোলতলায় নামিয়ে দেন তিনি। কিন্তু ব্যাগে কী ছিল, এখন জানার পর শিউরে উঠছেন হারাধন। একই অবস্থা মধ্যমগ্রামের বিধানপল্লির শ্যামসুন্দর দাসের।
Advertisement
সোমবার ভোরে দোলতলা স্ট্যান্ডে ট্যাক্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘দুই মহিলাকে নিয়ে একটি ভ্যান এসে দাঁড়াল ওখানে। সঙ্গে নীল রঙের একটা বড় ব্যাগ। দু’জনের মধ্যে কমবয়সি যে, সে এসে জিজ্ঞাসা করল, কুমোরটুলি যাবেন? আমি ৭০০ টাকা চাই। ওরা দর কষাকষি শুরু করে। শেষমেষ ৬০০ টাকায় রাজি হই।’ তিনি আরও জানান, ভ্যান থেকে ভারী ব্যাগ নামাতে হিমশিম খেয়ে যায় মা-মেয়ে। তখন তিনিও ব্যাগ নামাতে তাদের সাহায্য করেছিলেন। এত ভারী ব্যাগ দেখে তিনি প্রশ্নই করে বসেছিলেন, কী আছে এতে? উত্তর এসেছিল, কাঁসার বাসন, জামাকাপড়, খাবার এসব। এয়ারপোর্ট পেরনোর পর তাদের কাছ থেকে ভাড়ার ৫০০ টাকা নিয়েই গাড়িতে তেল ভরেন শ্যামসুন্দর। তবে গাড়ির মধ্যে দুই যাত্রীর আর কোনও কথোপকথন তাঁর কানে আসেনি। কুমোরটুলিতে পৌঁছে ডিকি খুলে দেন তিনি। বাকি ১০০ টাকা তাঁকে দিয়ে দেওয়া হয়। এত ভারী ব্যাগের জন্য আরও ১০০ টাকা চান শ্যামসুন্দর। তাও দিয়ে দেয় তারা। তারপর মধ্যমগ্রাম ফিরে আসেন শ্যামসুন্দর।
বেলা গড়াতেই কানে আসে ভয়ানক ঘটনার খবর। শ্যামসুন্দর বলছিলেন, ‘ব্যাগটা ভারী ছিল ঠিকই। কিন্তু মৃতদেহ রয়েছে, ভাবতে পারিনি। ৩০ বছর ধরে ট্যাক্সি চালাচ্ছি।’ এই ঘটনায় আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হারাধন ও শ্যামসুন্দরের পরিবারের সদস্যরাও। কারণ, দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। আতঙ্কিত হারাধন বলছেন, এবার থেকে যাত্রীর হাতে ওরকম বড় ব্যাগ থাকলে তোলার আগে দু’বার ভাবব। অনেক শিক্ষা হল!
বেলা গড়াতেই কানে আসে ভয়ানক ঘটনার খবর। শ্যামসুন্দর বলছিলেন, ‘ব্যাগটা ভারী ছিল ঠিকই। কিন্তু মৃতদেহ রয়েছে, ভাবতে পারিনি। ৩০ বছর ধরে ট্যাক্সি চালাচ্ছি।’ এই ঘটনায় আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হারাধন ও শ্যামসুন্দরের পরিবারের সদস্যরাও। কারণ, দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। আতঙ্কিত হারাধন বলছেন, এবার থেকে যাত্রীর হাতে ওরকম বড় ব্যাগ থাকলে তোলার আগে দু’বার ভাবব। অনেক শিক্ষা হল!



