Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘আয়নাঘরে’ গুম কাণ্ডে জড়িত হাসিনা, জানাল ইউনুসের তৈরি কমিশন

সরকারের বিরোধিতা করলেই হঠাত্ ‘নিখোঁজ’। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় সরকার-বিরোধীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। বিনা বিচারে তাদের গোপন বন্দিশালায় আটক করে রেখে দিনের পর দিন চলত অত্যাচার। কেউ কেউ সেই অত্যাচার সয়ে ফের বাড়ি ফিরতেন।

‘আয়নাঘরে’ গুম কাণ্ডে জড়িত হাসিনা, জানাল ইউনুসের তৈরি কমিশন
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা: সরকারের বিরোধিতা করলেই হঠাত্ ‘নিখোঁজ’। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় সরকার-বিরোধীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। বিনা বিচারে তাদের গোপন বন্দিশালায় আটক করে রেখে দিনের পর দিন চলত অত্যাচার। কেউ কেউ সেই অত্যাচার সয়ে ফের বাড়ি ফিরতেন। বহু মানুষের আর কোনওদিন সন্ধানই মেলেনি। লোকমুখে এই গোপন বন্দিশালার নাম হয়ে যায় ‘আয়নাঘর’। এবার বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করল, বিনা বিচারে এভাবে মানুষকে ‘গুম’ করার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। রাষ্ট্রের মদতে বিরোধীদের গুম করা নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শনিবার ওই কমিশন অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং সেনা ও পুলিসের শীর্ষ আধিকারিকদের সরাসরি নির্দেশেই গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রেখে অত্যাচার করা হত। খুন করে লোপাট করে দেওয়া হত দেহ।  কমিশন জানিয়েছে, সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে এভাবে ‘গুম’ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মী ও কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৬৭৬টি গুম করার অভিযোগ তাঁরা নথিভূক্ত করেছেন। তার মধ্যে ৭৫৮টি অভিযোগ তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে ২০০ জনের আর কোনওদিন সন্ধানই মেলেনি। 
Advertisement
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এরকম আটটি ‘আয়নাঘর’-এর খোঁজ মিলেছে। হাসিনার দেশত্যাগের পর কয়েকজন ‘বন্দি’ এই আয়নাঘর থেকে মুক্তিও পেয়েছেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, হাসিনার পাশাপাশি তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকি, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটারিং সেন্টারের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিস আধিকারিক হারুন-উর-রশিদ সহ একাধিক ব্যক্তি গুমের সঙ্গে জড়িত। কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরি জানান, কাউকে গুম করার ক্ষেত্রে এমন নিখুঁত পরিকল্পনা করা হত যে, পরে কোনও সূত্রই পাওয়া যেত না। এমনকী যাদের দিয়ে এই গুম বা খুন করানো হত, তারা সেই বন্দিদের পরিচয়ও জানত না। কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তিকে তুলে আনা, অত্যাচার চালানো ও বন্দি করে রাখার কাজ মূলত করত পুলিসের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র‌্যাব। ওই রিপোর্টে র‌্যাবকে ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ