Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘২৫ হাজার টাকা না দিলে আমাকে ওষুধ খেতে দেবে না’,   জেল থেকে পরিবারকে ইউপিআই পাঠিয়ে কাতর আর্জি আবাসকাণ্ডে ধৃত সরকারি কর্মীর

‘২৫ হাজার টাকা না দিলে আমাকে ওষুধ খেতে দেবে না’,   জেল থেকে পরিবারকে ইউপিআই পাঠিয়ে কাতর আর্জি আবাসকাণ্ডে ধৃত সরকারি কর্মীর
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বনগাঁ: সংশোধনাগারেই তোলা চেয়ে হুমকি! দাবি মতো ২৫ হাজার টাকা না দিলে, ঠিক মতো খাবার মিলবে না। মিলবে না কোনও ওষুধপত্র। মারধর করা হবে তাঁকে। এহেন হুমকির সঙ্গেই তোলা চেয়ে দমদম সেন্ট্রাল জেলের এক বন্দিকে দিয়ে ফোন করানো হয় তাঁর আইনজীবীকে। মক্কেলের কাছ থেকে ফোনে এসব শুনে তাজ্জব বনে যান ওই আইনজীবি। পাশাপাশি ওই বন্দির এক আত্মীয়কেও ফোন করে টাকা মেটাতে বলা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় ইউপিআই নম্বর। ভয় পেয়ে অনলাইনে কিছু টাকাও পাঠিয়ে দেন ওই আত্মীয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বন্দির আইনজীবী দীপঞ্জয় দত্ত।
Advertisement
গত ২১ তারিখ আবাস তালিকায় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বনগাঁ বিডিও অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী সঞ্জয় বোস। তাঁকে বনগাঁ আদালতে হাজির করা হলে আদালত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। প্রথমে বনগাঁ উপ সংশোধনাগারে পাঠানো হয় তাঁকে। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দমদম সেন্ট্রাল সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। অভিযোগ এরপরই সংশোধনাগারে টাকা চেয়ে হুমকি দেয় সহবন্দিরা। ভয়ে আইনজীবীকে টাকার জন্য ফোন করেন সঞ্জয়। গত ২৭ তারিখ রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বনগাঁ আদালতের আইনজীবী দীপাঞ্জয় দত্তের কাছে ওই ফোনটি আসে। দীপাঞ্জয়বাবু বলেন, আমার মক্কেলের ফোনে জানতে পারি সংশোধনাগারে টাকা চেয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে অত্যাচার করা হবে বলে জানানো হচ্ছে। পরদিনই বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন তিনি। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বনগাঁ সাইবার থানায় অভিযোগ করেন আইনজীবী। সংশোধনাগার থেকে কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে সংশোধনাগারে কে বা কারা ওই বন্দিকে হুমকি দিচ্ছে সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশ্বস্ত একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দমদম সংশোধনাগারে অবাধে মোবাইল ফোনের ব্যবহার চলছে। পাশাপাশি রয়েছে নেশার হাতছানি। এক শ্রেণীর অসাধু জেল কর্মীর মদতেই চলে এই কারবার। জানা গিয়েছে, আকারে খুবই ছোট বিশেষ এক ধরনের ফোন জেল বন্দিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। বন্দিরাই মলদ্বারের ভিতর লুকিয়ে জেলের ভিতর ফোন নিয়ে যাচ্ছে। ভিতরে পৌঁছে যাচ্ছে মদ-গাঁজা। সংশোধনাগারে কয়েকজন কুখ্যাত বন্দির নেতৃত্বে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। অন্য কোনও জেল থেকে নতুন বন্দি এলেই, সেই সিন্ডিকেটের ‘দাদাদের’ ভেট চড়ানোটাই এখন রীতি। সেই ভেট বাবদ পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাইতে বাধ্য করা হয় নতুন বন্দিদের।  সংশোধনাগার থেকে আইনজীবীকে ফোন করায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে বিষয়ে দমদম সেন্ট্রাল জেলের সুপার সুপ্রকাশ রায়কে বেশ কয়েকবার ফোন এবং পরে মেসেজ পাঠানো হলেও, তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ