Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সস্তার ধান সরকারি দরে বিক্রি! তৃণমূল জমানায় ফুলেফেঁপে ফড়েরা, বঞ্চিত নদীয়ার প্রকৃত চাষিরা

নদীয়ার চাষিরা সরকারি ধানে ফড়েদের মুনাফার শিকার। জগন্নাথ সরকারের অভিযোগে নতুন মাত্রা। কেন কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত? বিস্তারিত পড়ুন।

সস্তার ধান সরকারি দরে বিক্রি! তৃণমূল জমানায় ফুলেফেঁপে ফড়েরা, বঞ্চিত নদীয়ার প্রকৃত চাষিরা
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: বাজার থেকে ১৭০০-১৮০০ টাকা কুইন্টাল দরে কেনা নিম্নমানের ধান ভুয়োভাবে চাষির নামে সরকারি কিষাণ মান্ডিতে বিক্রি হতো ২৩৬৯ টাকা কুইন্টাল দরে। অভিযোগ, এই মূল্য ব্যবধানকেই হাতিয়ার করে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার মুনাফা লুটেছে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র। আর এই খেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রকৃত চাষিরাই।

Advertisement

নদীয়ার একাধিক এলাকায় সরকারি ধান সংগ্রহ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। কৃষকদের দাবি, ধান কেনাবেচার পুরো প্রক্রিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের। তাঁরা কার্যত ফড়ের ভূমিকায় নেমে সরকারি এমএসপি প্রকল্পকে মুনাফার ব্যবসায় পরিণত করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাজার বা বাইরের ব্যবসায়ীদের থেকে কম দামে নিম্নমানের ধান কিনে নেওয়া হতো। এরপর বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের ফার্মার রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করে সেই ধানই কাগজে-কলমে কৃষকদের উৎপাদিত ধান হিসেবে দেখিয়ে কিষাণ মান্ডিতে বিক্রি করা হতো। সরকার যেখানে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ২৩৬৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল, সেখানে সেই সুবিধা ভোগ করত মধ্যস্বত্বভোগী চক্র।
কৃষকদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের অনেককে নির্দিষ্ট দিনে কিষাণ মান্ডিতে উপস্থিত থাকতে বলা হতো। সরকারি নথিতে তাঁদের নাম ব্যবহার করা হলেও বিক্রি হওয়া ধানের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক থাকত না। বিনিময়ে কিছু টাকা বা বকশিশ দিয়ে বিষয়টি চেপে রাখা হতো।  এই অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। সম্প্রতি জেলাশাসকের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, এই মধ্যস্বত্বভোগীদের মধ্যে অনেকেই পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, এমনকী পঞ্চায়েতের প্রধান পদেও রয়েছেন বা ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কৃষকদের নিবন্ধন শংসাপত্র ব্যবহার করে বাজার থেকে কেনা ধান এমএসপি মূল্যে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে রাইস মিল মালিকদের উপরও চাপ সৃষ্টি করা হতো। কোনো মিল বা মান্ডি নিম্নমানের ধান নিতে অস্বীকার করলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হতো। সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বক্তব্য, চাষিদের বদলে ফড়েদের থেকে ধান কেনা হয়েছে। এই মধ্যস্থতাভোগী ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা চাই প্রকৃত চাষিরাই সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ পান।’
রাইস মিলার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক উত্তম ঘোষ বলেন, ‘ফড়েদের ভূমিকা নিয়ে অতীতেও আমরা প্রতিবাদ করেছি। আগামী দিনে উৎপাদনের ভিত্তিতেই ধান কেনাবেচা হওয়া উচিত।’ কৃষি মহলের মতে, যে প্রকল্প কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য চালু হয়েছিল, সেই প্রকল্পের সুযোগ নিয়েই যদি বাজারের সস্তার ধান সরকারি দরে বিক্রি করে কোটি টাকার মুনাফা তোলা হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েই। এখন জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ