নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গতবারের তুলনায় বাড়ল পড়ুয়া ভরতির সংখ্যা। তবু শয়ে শয়ে এখনও খালি আসন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আরামবাগ মহকুমার কলেজগুলিতে প্রথম দফায় গত ১৫ জুন পর্যন্ত ভরতি প্রক্রিয়া চলেছে। তাতে দেখা গিয়েছে পড়ুয়া ভরতির সংখ্যা গতবারের তুলনায় বাড়লেও এখনও সন্তোষজনক নয়। আরামবাগ মহকুমায় ছ’টি কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে পড়ুয়া ভরতিতে শীর্ষে রয়েছে আরামবাগের কালীপুরের নেতাজি মহাবিদ্যালয়। বিভিন্ন কলেজেই বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলিতে পড়তে এবারও অনীহা দেখা যাচ্ছে পড়ুয়াদের মধ্যে।
কলেজ কর্তৃপক্ষগুলি জানিয়েছে, নেতাজি মহাবিদ্যালয়ে এখনও পর্যন্ত ১,৫৫০ জন ভরতি হয়েছেন। এখানে আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে এবার ভরতি হয়েছেন ১,৫৩৮ জন। কলেজ কর্তৃপক্ষ সঙ্গীত বিভাগে ১২ জনকে ভরতি করেছে। গতবছর প্রায় ১,২০০ জন পড়ুয়া ভরতি হয়েছিলেন। নেতাজি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সচ্চিদানন্দ রায় বলেন, গতবারের তুলনায় এবার এখনও পর্যন্ত পড়ুয়া ভরতিতে আমরা কিছুটা ভাল জায়গায় রয়েছি। সাহিত্যের বিষয়গুলিতে ভাল সংখ্যক পড়ুয়া ভরতি হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগেও অনেক ছাত্রছাত্রী ভরতি হয়েছে। তবে আরও দু’টি রাউন্ডে পড়ুয়া ভরতির সুযোগ রয়েছে। আশা করছি এবার আড়াই হাজার পড়ুয়া ভরতি হবে এই কলেজে।
কামারপুকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যা মহাপীঠে এখনও পর্যন্ত ৫৭৬ জন ভরতি হয়েছেন। সেখানে আসন সংখ্যা ২,৮৭১টি। গতবার এখানে ৪৯৭ জন ভরতি হয়েছিলেন। এই কলেজে কলা ও বিজ্ঞান পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
খানাকুলে রাজা রামমোহন রায় মহাবিদ্যালয়ে প্রায় ৮০০ জন ভরতি হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেখানে আসন রয়েছে প্রায় ২২০০ টি। গতবার এই কলেজে প্রায় ৪০০ জন ভরতি হয়েছিলেন।
গোঘাটে বেঙ্গাই অঘোরকামিনী প্রকাশচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ে প্রথম দফায় ৬৫০ জন ভরতি হয়েছেন। সেখানে গতবছর ভরতি হয়েছিলেন ৩৫০ জন। আসন রয়েছে ১,৫০০টি। কলেজের অধ্যক্ষ শম্পা মণ্ডল বলেন, কলেজে ভরতি প্রক্রিয়ার আগে আমরা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছি। তার সঙ্গে স্কুলগুলিতেও যাওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলিতেও কমবেশি ভরতি হচ্ছে।
আরামবাগ গার্লস কলেজে আসন রয়েছে দুই হাজার। এখনো পর্যন্ত সেখানে ৬৫৮ জন ভরতি হয়েছেন। গতবছর ছাত্রী ভর্তি হয়েছিলেন ৩৯৪ জন। এই কলেজে কলা বিভাগের বিষয়গুলি পড়ানো হয়। এছাড়া আরামবাগের কেশবপুরে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম মহাবিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত ৫০ জন ভর্তি হয়েছেন। যদিও গত বছর পড়ুয়া ভরতি হন ৩৬ জন। সেখানে আসন সংখ্যা রয়েছে ৬৩৮ টি।
বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষরা বলছেন, এবার উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী সংখ্যা বেশি ছিল। পাশের হারও অন্যবারের তুলনায় বেড়েছে। তার ফলে কলেজে ভরতি সংখ্যা বাড়তে পারে। তার সঙ্গে নতুন সরকার আসায় অনেকেই আশা করছেন শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হতে পারে। সেই আশায় কলেজে পড়তে আসছেন অনেকেই।