নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: অবৈধ সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে প্রেমিকের হাতে খুন হলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ, সম্পর্ক রাখতে না চাওয়ায় অতর্কিতে গৃহবধূর ঘাড়ে কাটারির কোপ দেয় প্রেমিক। ব্যাপক রক্তক্ষরণের জেরে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওয়াহিদা বিবি (৩৪) নামে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির পাণ্ডুয়া থানার রামেশ্বরপুর-গোপালনগর পঞ্চায়েতের দাঁ পুর গ্রামে। ওয়াহিদার প্রেমিক পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম গোপাল ক্ষেত্রপাল ওরফে রাজা। পেশায় দিনমজুর ওই যুবক গুড়াপের কুলবাড়ির বাসিন্দা। পাশের গ্রাম আকবরপুরে ওয়াহিদার বাবার বাড়ি। সেই সূত্রে প্রায় তিনবছর আগে রাজার সঙ্গে ওয়াহিদার যোগাযোগ এবং দু’বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াহিদার স্বামী হোসেন শেখ। তাঁর কিছুটা মানসিক সমস্যা আছে। প্রায় ৯ বছর আগে গুড়াপের আকবরপুরের বাসিন্দা ওয়াহিদার সঙ্গে পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর হোসেনের বিয়ে হয়েছিল। দম্পতির দু’টি কন্যাসন্তান আছে। তাদের একজনের বয়স আট বছর ও একজনের পাঁচবছর। ওয়াহিদার দিদি ফরিদা বিবি ওই ঘটনায় গোপাল ওরফে রাজার বিরুদ্ধে পাণ্ডুয়া থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার তিনি বলেন, গভীর রাতে মুখে গামছা বেঁধে এসে রাজা আমার বোনের উপরে হামলা চালিয়েছিল। মা’কে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে বড়ো বোনঝি আমাকে ফোন করে। গত দু’বছর রাজার সঙ্গে ওয়াহিদার সম্পর্ক ছিল। আমরা বোনকে অনেক বুঝিয়ে সম্পর্ক থেকে বের করে আনতে চেষ্টা করছিলাম। সম্প্রতি ওই ছেলের সঙ্গে দূরত্ব রাখতে শুরু করেছিল। সেই রাগে রাজা আমার বোনকে খুন করেছে। পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই গৃহবধূর খুনের তদন্ত শুরু হয়েছে। গোপাল ক্ষেত্রপাল নামে এক সন্দেহভাজন যুবককের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার ফোনের সূত্র ধরে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তাঁর কিছু সাম্প্রতিক কথোপকথন পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে খাওয়াদাওয়া করে স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ওয়াহিদা। গভীর রাতে তাঁর আর্তচিৎকার শুনে বড়ো মেয়ে ও স্বামী জেগে ওঠেন। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখতে পান রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূ কাতরাচ্ছেন। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়। রাতেই তাঁকে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। গভীর রাতে সেখানেই তিনি মারা যান। নিহত ওয়াহিদা বিবি।