Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

বেঁচে থাকে ভালোবাসা

‘ভালোবাসা বাকি আছে, তোমারও আমার কাছে’...এটা ভালোবাসা বাকি থাকারই গল্প। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ পেরিয়েছে আঠারো বছর। কতটা সাবালক হয়েছে এখনকার মেট্রো?

বেঁচে থাকে ভালোবাসা
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

‘ভালোবাসা বাকি আছে, তোমারও আমার কাছে’...এটা ভালোবাসা বাকি থাকারই গল্প। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ পেরিয়েছে আঠারো বছর। কতটা সাবালক হয়েছে এখনকার মেট্রো? ভালোবাসা, আস্থা, দায়বদ্ধতা, অবিশ্বাস, পরকীয়া, অপ্রাপ্তি, উচ্চকাঙ্ক্ষা— এই শব্দগুলোর ভার কি সময়ের অন্তরে বদলায়? নাকি সেগুলো শুধু নতুন চেহারায় আমাদের আশপাশে ঘোরাফেরা করে? পরিচালক অনুরাগ বসু খুঁজে বেরিয়েছেন এসবের উত্তর। 
প্রেম থেকে অপ্রেমে হারিয়ে যাওয়ার শূন্যতা। অপ্রেম থেকে আবার একটা জাদুকাঠির স্পর্শ। আর যারা না-প্রেমের গলিতে ঘুরে মরছে, তাদেরও টেনে আনা ভালোবাসার চৌহদ্দিতে। সব লড়াই, সব দীর্ঘশ্বাস পেরিয়ে দিনের শেষে বেঁচে থাকে ভালোবাসা। বদলে যাওয়া চারপাশে এই প্রজন্মের ‘কমিন্টমেন্ট ফোবিয়া’ সত্ত্বেও জিতে যায় ভালোবাসাই। সেই গল্পগুলোকে বেঁধে রাখে গান। অনুরাগের ছবি মানেই গানের বড় ভূমিকা। যদিও তুলনায় এগিয়ে থাকবে ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’-র গান। 
ছবি জুড়ে উঠে আসে অনেকগুলো সম্পর্কের কথা। তাদের গল্পগুলো একটা অন্যটার সঙ্গে মিলেমিশে আছে। সারা আলি খান-আদিত্য রায় কাপুরের আলাপচারিতার গলি ধরেই দর্শক জেনে নেন সারার মা-বাবা নীনা গুপ্তা-শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, দিদি কঙ্কণা সেনশর্মা। কঙ্কণার স্বামীর চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী। চরিত্রের নাম ‘মন্টি’। ঠিক যেমনটি ছিল আগেরবার, কঙ্কণার বিপরীতে ‘মন্টি’ হয়েছিলেন ইরফান খান। ইরফানের সঙ্গে পঙ্কজের তুলনা করাটাই বোকামি। বরং পঙ্কজ তাঁর চরিত্রের মতোই ব্যতিক্রমী, সুন্দর। কঙ্কণা-পঙ্কজের রসায়ন এছবির সম্পদ। ছবিতে তাঁদের টিনএজ মেয়েটি নিজের যৌন পরিচয় নিয়ে ধন্দে। সে উত্তর খুঁজতে এআই-এর দ্বারস্থ হয়। কিশোরীর মনের দোলাচলের ফাঁকে পরিচালক ছুঁয়ে দেখেন সময়ের দলিল। 
অল্পবয়সি দম্পতি ফতিমা সানা শেখ-আলি ফজল। তাঁদের সঙ্কট খুব সূক্ষ্ম তারে বেঁধেছেন অনুরাগ। বিখ্যাত মিউজিশিয়ান হওয়ার মোহে কাছের সম্পর্কটা হাতের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে, অনেক পরে বুঝবেন আলি। তলিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বরে বলা তাঁর দু’একটা শব্দ কাঁদিয়ে দেবে দর্শককে। এই দম্পতিরই বন্ধুর ভূমিকায় আদিত্য রায় কাপুর। প্রথমদিকে ক্যাসানোভা, পরে থিতু হলেন সারায়। যদিও সম্পর্ক ঘিরে সারার মনে হাজার দ্বন্দ্ব। চোখের সামনে ক্রমাগত ভাঙতে বসা সম্পর্ক এই প্রজন্মের চোখে কোনও নজির তৈরি করে না। তবু তারা ঘরে ফেরে। বিশ্বাস ফিরে পায়। 
সারার মা হিসেবে নীনা গুপ্তা সতেজ। সংসারে আপস করেও যিনি মুক্তির জন্য মুখিয়ে। সুযোগ পেলে বেরিয়েও যান। কিন্তু তাঁর যাওয়া তো নয় যাওয়া! তছনছ করে সম্পর্ক শেষ করে দিলেই কি সঙ্কট মিটে যায়? একটু ঘন করে দুধ জ্বাল দেওয়ার মতো সম্পর্ককে পাকতে দিতে হয়। উথাল-পাতাল হোক, কিন্তু সব পেরিয়ে ‘মুখোমুখি বসিবার’ সে থাকুক। প্রাক্তন বন্ধু অনুপম খের আসুন পাগলা হাওয়া হয়ে, তারপর হাত ধরার জন্য স্বামী। সেও আবার স্ত্রীকে খোঁজে এআই-এর কাছে। অনুরাগ আশাবাদী এখানেই। অনুরাগ এখানেই সময়োপযোগী।
গল্পের বুনট কোনও কোনও অংশে একটু দীর্ঘ। বাঙালি দর্শক হিসেবে শাশ্বতকে পর্দায় আর একটু দেখার প্রত্যাশা ছিল। তবে অনুপমের পুত্রবধূর চরিত্রে চমকে দিয়েছেন দর্শনা বণিক। সংযত সুন্দর উপস্থিতি তাঁর।
বৃষ্টিভেজা কলকাতা-মুম্বই-ব্যাঙ্গালোর-দিল্লি মেট্রো শহর। স্ক্রিন পেরিয়ে বাইরে এসেও বৃষ্টিছোঁয়া সকাল-সন্ধে জানান দিচ্ছে ভালোবাসা বেঁচে আছে। অন্যরকমভাবে, আঠারো বছর পরেও। 

Advertisement


অন্বেষা দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ