Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বাড়ির বাগানে স্থলপদ্ম

বাড়ির বাগান কেবল শখের জায়গা নয়, অনেকের কাছে এটি মানসিক শান্তির উৎস। দিনের যাবতীয় ব্যস্ততা শেষে সবুজের মাঝে কয়েক মুহূর্ত কাটালে মেলে প্রশান্তি

বাড়ির বাগানে স্থলপদ্ম
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

বাড়ির বাগান কেবল শখের জায়গা নয়, অনেকের কাছে এটি মানসিক শান্তির উৎস। দিনের যাবতীয় ব্যস্ততা শেষে সবুজের মাঝে কয়েক মুহূর্ত কাটালে মেলে প্রশান্তি। বাড়ির সৌন্দর্যও বেড়ে যায় বহু গুণ। আর বাড়ির বাগানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে স্থলপদ্ম। এর বড়ো পাতা, ঋতু অনুযায়ী মনোরম ফুল আর উচ্চতা আপনার বাগানকে আলাদা করে তুলবে। অনেকে ভাবেন, পদ্ম মানেই জলজ উদ্ভিদ। কিন্তু স্থলপদ্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি মাটিতে জন্মায়। সঠিক পরিচর্যা পেলে ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এবং পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় কাণ্ড বেশ মোটা ও শক্ত হয়। তাই শুরুতেই গাছের ভবিষ্যৎ আকার মাথায় রেখে টব, মাটি ও পরিচর্যার পরিকল্পনা করা জরুরি। সঠিক নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলে স্থলপদ্ম বাগানের অন্যতম আকর্ষণ হবে। কীভাবে সাজাবেন? রইল কিছু টিপস। 
টব নির্বাচন
বাজার থেকে সাধারণত এক ফুট বা দেড় ফুট উচ্চতার ছোটো গাছ কিনে আনুন। এ ধরনের ছোটো গাছ প্রথমে ৮-১০ ইঞ্চি ব্যাসের টবে বসানোই ভালো। খুব বেশি বড়ো টব প্রথমেই ব্যবহার করবেন না। কারণ মাটিতে অতিরিক্ত জল জমে থাকলে শিকড় ঠিকভাবে মাটি আঁকড়ে ধরতে পারে না। গাছ ধীরে ধীরে বড়ো হলে ধাপে ধাপে বড়ো টবে বসাতে হবে। এতে গাছের শিকড়, কাণ্ড ও পাতা তার ক্ষমতা অনুযায়ী পুষ্টি, জল গ্রহণ করবে।
মাটির প্রস্তুতি
স্থলপদ্ম বেলে ও দোআঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভালো বাড়ে। মাটির সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভার্মি কম্পোস্ট এবং ৫ শতাংশ নিম খোল মিশিয়ে নিলে গাছের প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট পুষ্টির জোগান পাওয়া যায়। নতুন গাছ বসানোর সময় এই মিশ্রণই যথেষ্ট। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার শুরুতেই ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
সার প্রয়োগের নিয়ম
গাছ টবে বসানোর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে শিকড় মাটির সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তখন ধীরে ধীরে গাছকে খাদ্য দেওয়া শুরু করতে হবে। ভার্মি কম্পোস্ট ও খোল (বিশেষ করে সরষে খোল) একসঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ অনুখাদ্য ব্যবহার করা যায়। কেউ যদি রাসায়নিক সার দিতে চান, তবে খুব অল্প মাত্রায় (যেমন ডিএপি বা ১৪-৩৫-১৪ জাতীয় সার ৪ থেকে ৫ গ্রাম) প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর বেশি নয়। প্রথমবার সার দেওয়ার ৩০ থেকে ৪৫ দিন পর একই মাত্রায় দ্বিতীয়বার দেওয়া যায়। তবে বর্ষাকালে বা টানা বৃষ্টির সময় সার দেওয়া উচিত নয়। বর্ষা বাদে বছরে নিয়মিত ৩০ থেকে ৪৫ দিন অন্তর গাছের আকার অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। 
আলো ও অবস্থান
স্থলপদ্ম একটি আউটডোর গাছ। দিনে অন্তত ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা রোদ পেলে গাছ দ্রুত ও সুস্থভাবে বাড়ে। বাড়ির দক্ষিণমুখী বারান্দা বা বাগানের যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি রোদ পড়ে, সেখানে রাখা ভালো। গরমকালে কড়া রোদে গাছের সমস্যা হয় না, যদি পর্যাপ্ত জল পায়। যত রোদ পাবে, তত ভালো ফুল ও পাতা পাওয়া যাবে।

Advertisement

জল দেওয়ার নিয়ম
জল দেওয়ার পরিমাণ সম্পূর্ণ নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। বর্ষাকালে সাধারণত আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় কম জল দিতে হবে। মাটি পুরো শুকিয়ে গেলে তবেই জল দেবেন। তবে যেন অতিরিক্ত জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত জল জমে থাকলে তা শিকড় পচিয়ে দিতে পারে। 
মনে রাখবেন
১. ভার্মি কম্পোস্ট স্থলপদ্মের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও নিরাপদ সার।
২. নিম খোল পোকামাকড় প্রতিরোধে সহায়ক, তবে পরিমাণ সঠিক রাখতে হবে।
৩. সরষে খোল ব্যবহারের আগে জলে ভিজিয়ে পচিয়ে নেওয়া ভালো, কারণ কাঁচা খোলের গন্ধ ও তাপ গাছের ক্ষতি করতে পারে।
৪. রাসায়নিক সারের বদলে প্রাকৃতিক সারই বেশি নিরাপদ।
৫. মিনি বাগ জাতীয় পোকা যদি গাছে ধরে সেক্ষেত্রে বাজারচলতি অর্গানিক মেডিসিন ব্যবহার করতে পারেন। 
গাছকে কীভাবে ছাঁটাই করবেন তার উপর নির্ভর করে পাতা ও ডালপালার বৃদ্ধি। নিয়মিত যত্ন, পর্যাপ্ত আলো, জল স্থলপদ্মের বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
শান্তনু দত্ত 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ