Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটির! বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা

মঙ্গলাহাটে ফুটপাতে ব্যবসা বন্ধ থাকায় ১০ হাজার ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ ব্যবসায়ীরা। বিস্তারিত পড়ুন।

ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটির! বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মঙ্গলাহাটে ফুটপাতে ব্যবসা নিয়ে জট কাটার কোনো ইঙ্গিত মিলল না মঙ্গলবারও। ফলে পরপর দু’টি সপ্তাহে কোনো বেচাকেনা করতে পারলেন না প্রায় ১০ হাজার অস্থায়ী ব্যবসায়ী। তাঁদের সংগঠনের দাবি, শুধু ফুটপাতে ব্যবসা বন্ধ থাকার কারণেই গত দু’সপ্তাহে সব মিলিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এর ফলে শুধু যে ছোটো ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা নয়! তাঁদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত কয়েক হাজার হোসিয়ারি শ্রমিক ও অন্যান্য কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এতকিছুর পরও প্রশাসন বা সরকারের তরফে ইতিবাচক কোনো সাড়া না মেলায় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছে মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতি।

Advertisement

মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মঙ্গলাহাটে ফুটপাতে ব্যবসার উপর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। প্রথম সপ্তাহে প্রশাসনের কিছু মৌখিক শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে ব্যবসা চালাতে পারলেও চলতি সপ্তাহে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে মালপত্র নামাতেই দেওয়া হয়নি ব্যবসায়ীদের। অভিযোগ, সোমবার ভোরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ফুটপাতে পসরা সাজাতে গেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে মঙ্গলাহাট চত্বরে জমায়েত করেন বহু ছোটো ব্যবসায়ী। তাঁদের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ, হতাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কার ছাপ। নিত্যধন মুখার্জি রোডে গত ৩৭ বছর ধরে ব্যবসা করছেন আশিসকান্তি বাড়ুই। তাঁর পরিবার ১৯৬৬ সাল থেকে মঙ্গলাহাটের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় বাসিন্দা। ট্রেড লাইসেন্সও রয়েছে। প্রাচীন এই পাইকারি বস্ত্র বাজারের উপর রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের রুজিরুটি নির্ভর করে। সরকার এমন একটি সমাধান করুক, যাতে এতগুলি পরিবার সংকটে না পড়ে।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে গড়ে ১২ থেকে ১৪ জনের জীবিকা জড়িত। তাঁদের মধ্যে উৎপাদন ইউনিটের সেলাই কারিগর থেকে শুরু করে পরিবহণ ও অন্যান্য শ্রমিক রয়েছেন। তাই উদ্ভুত সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে শুধু ফুটপাতের ব্যবসা নয়, মঙ্গলাহাটের ন’টি হাট বিল্ডিংসহ গোটা বস্ত্র বাজারের অর্থনীতিই ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা তাঁদের। ইতিমধ্যে ভিন রাজ্যের বহু ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মঙ্গলাহাটে আসা কমিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক কর্তাকে চিঠি দিয়ে সমাধানের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহেও যদি ব্যবসার অনুমতি না মেলে, তাহলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হবে। তাই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ চেয়ে আমরা তাদের রাজ্য সভাপতিকে চিঠি দিয়েছি।’

সম্পর্কিত সংবাদ