সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ঝুলন পূর্ণিমায় প্রায় ৪০০ভরি সোনার গয়নায় নবদ্বীপের ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সাজানো হয়। শুক্রবার পূর্ণিমা তিথিতে রাজবেশে সেজে উঠবেন মহাপ্রভু। ওইদিন নবদ্বীপের গানতলা রোডের বলদেব জিউ মন্দিরেও সাড়ম্বরে বলদেবচন্দ্রের আবির্ভাব তিথি উদ্যাপিত হবে। দু’টি মন্দিরেই দিনভর ভক্তদের ভিড় উপচে পড়বে।
প্রথা মেনে প্রতিপদ থেকেই ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পক্ষকালব্যাপী ঝুলন উৎসব শুরু হয়েছিল। পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত মহাপ্রভুকে রুপোর সিংহাসনে দোলানো হয়। ঝুলন পূর্ণিমায় ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মাথায় মোহন চূড়া, গৌরপদক লকেটযুক্ত মালা, প্রজাপতি হার, মকরবালা, অর্ধমটর মালা, গলায় সোনার একজোড়া চিক, গৌরাঙ্গ হার, ময়ূরহারও পরানো হয়। কানে থাকে সোনার কানপাশা। হাতে বালা ও বাজু, শ্রীচরণে নূপুর থাকে। মহাপ্রভুর হাতে দেওয়া হয় রুপোর রাজদণ্ড। গৌরবিষ্ণুপ্রিয়া ও সখী সাজে হিন্দোল কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় পাঠ হবে।
এই বিশেষ দিনে মহাপ্রভুকে দুপুরে পঞ্চব্যঞ্জন সহ অন্নভোগ দেওয়া হয়। ঝুলনের জন্য বিকালে ছানা ও মিষ্টি, রাতে লুচি, মালপোয়া, পিঠে, নাড়ু, ক্ষীর ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
নবদ্বীপ বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। ঝুলনযাত্রাতে মহাপ্রভু সৌহার্দ্য ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার বার্তা দিয়েছিলেন। শুক্রবার ঝুলনযাত্রার সমাপ্তি। ওইদিন তাঁকে রাজবেশে এবং সম্পূর্ণ স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিত করা হবে। রাতে ঝুলন কীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে।
শুক্রবার নবদ্বীপের গানতলা রোডের বলদেব জিউ মন্দিরে সাড়ম্বরে বলদেবচন্দ্রের আবির্ভাব তিথি উদ্যাপিত হবে। বৈষ্ণব প্রথা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলন পূর্ণিমার তিথিতে এই আবির্ভাব উৎসব হয়ে আসছে। মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত কিশোরকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, অনেকেই জানেন না যে, ঝুলন পূর্ণিমাই বলদেবচন্দ্রের আবির্ভাব তিথি। এই বিশেষ দিনে বলদেবচন্দ্রকে বিভিন্ন সোনার অলংকারে ভূষিত করা হয়। তাঁকে সোনার চূড়া ও হার পরানো হয়। হাতে দেওয়া হয় সোনার সিঙা ও লাঠি। মধ্যাহ্নে রুপোর থালায় ঘরে তৈরি পিঠেপুলি সহ বিভিন্ন পদ নিবেদন করা হয়। আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে মন্দিরে উদয়াস্ত নামযজ্ঞ চলে। সকালে পঞ্চগব্য দিয়ে বলদেবচন্দ্রকে স্নান করানো হয়। এরপর বিশেষ অভিষেক অনুষ্ঠান হয়। নবদ্বীপের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে নামসংকীর্তনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার ঝুলন উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।