নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃষ্টিভেজা রাতে দুঃসাহসিক লুট বেলেঘাটায়। তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত প্রায় শতাধিক বছরের পুরানো কালীমন্দিরে ঢুকে লুটপাট চালাল দুষ্কৃতী। কোলাপসিবল গেট ও কাঠের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে অভিযুক্ত। বিগ্রহের গা থেকে যাবতীয় সোনার অলংকার খুলে নিয়ে চম্পট দেয় সে। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বেলেঘাটা থানা এলাকার ২৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের কাছে। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দির কমিটির সদস্যরা বেলেঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, এদিন সকালে সর্বপ্রথম মন্দিরের পুরোহিত বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তিনি দেখেন, মন্দিরের বাইরের কোলাপসিবল গেটের তালা ভাঙা। ভিতরে ঢুকতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুজোর সামগ্রী। বিগ্রহের গায়ে থাকায় যাবতীয় সোনার অলংকার হাপিস। তিনিই স্থানীয়দের খবর দেন। এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, ওই মন্দিরে কোনো সিসি ক্যামেরা লাগানো নেই। ফলে কে বা কারা ওই মন্দিরে ঢুকেছিল, তা প্রাথমিকভাবে জানতে পারেনি স্থানীয়রা। সকালেই বেলেঘাটা থানার দ্বারস্থ হন স্থানীয়রা। সেখানেই মন্দির থেকে খোয়া যাওয়া যাবতীয় অলংকারের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। মন্দির কমিটির দাবি, সবমিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকার গয়না ছিল ওই মন্দিরে। সবটাই খোয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় বেলেঘাটার থানার আধিকারিকরা। আপাতত বাইরে থেকে একটি তালা লাগিয়ে দিয়েছেন তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত আগে থেকেই ঘটনাস্থল রেকি করে গিয়েছে। মন্দিরে যে সিসি ক্যামেরা নেই তা জানত অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, এই ঘটনাস্থল তিন মাথার মোড়ে অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে চম্পট দেওয়াও সহজ। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। রাতের বেলা ওই মন্দিরের আশপাশে সন্দেহজনক চলাফেরা এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। নিজস্ব চিত্র