নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও শিলিগুড়ি, সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফরাক্কা ব্যারেজে প্রবেশের মুখে, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গগামী আপ লাইনে ধস নামায় শ্লথ হয় পড়ে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেললাইন সংস্কারের কাজ শুরু হয়। একাধিক ট্রেন বাতিল করা ছাড়াও রুট বদলে দেওয়া হয় একগুচ্ছ ট্রেনের। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, যাত্রীরা পরিবর্ত ট্রেনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। ট্রেন চলাচল বন্ধ নেই, তবে গাড়িগুলি ধীরে চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সংস্কারের কাজ চলবে।
এদিকে ধসের জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হতে শুরু করে। কোনো কোনো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের থেকে সাত-আট ঘন্টা দেরিতে চলাচল করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙার মাঝে রেললাইনে ধস নেমেছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এই ধস নামে। যার জেরে ব্যাহত ট্রেন চলাচল। আপ লাইনের সমস্ত ট্রেন চলছে দেরিতে। ডাউন লাইনে অবশ্য ট্রেন সঠিক সময়েই চলেছে। আপ ট্রেনগুলোকে বলরামপুর হয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে চরম সমস্যায় ভুগছেন যাত্রীরা। যদিও রেল প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেল লাইনের ধস মেরামতির কাজ শুরু করেছে। মেরামতির কাজ চলায় গৌড় এক্সপ্রেস সহ বেশকিছু ট্রেন আটকে পড়ে। বন্দে ভারত, পদাতিক এক্সপ্রেস সহ একাধিক ট্রেন দীর্ঘ চার-পাঁচ ঘণ্টা আটকে থাকে বলে খবর। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ধস মেরামতি করে ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে আটকে থাকা যাত্রীরা জল এবং খাদ্যের অভাবে চরম সমস্যায় পড়েন। বহক্ষণ বাদে ট্রেন মালদহ টাউনে পৌঁছতেই যাত্রীরা খাবার কিনতে দোকানে ভিড় জমান। অনেকে জল নিতে প্ল্যাটফর্মে নামেন। এক কথায় ধসের জেরে ট্রেনে আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ, ভোগান্তির ছবি ফুটে ওঠে।
মালদহ ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক রসরাজ মাঝি বলেন, ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। তবে আমরা দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করেছি। আশা করছি রাতের মধ্যেই সমস্যা মিটে যাবে।
কলকাতা থেকে এনজেপির যাত্রী কালারাম সিং বলেন, ফরাক্কার পর থেকেই ট্রেন অস্বাভাবিক দেরিতে চলতে শুরু করে। পরে জানতে পারি যে, রেললাইনে ধসের কারণে সমস্যা হয়েছে।
আরও এক যাত্রী মালতী সেন বলেন, অস্বাভাবিক দেরির কারণে এদিন আর অফিসে যেতে পারলাম না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে রেল লাইনে ধসের জন্য এমন ঘটেছে শুনলাম।
বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের তুলনায় চার-পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে এনজেপি স্টেশনে পৌঁছয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা। দেরিতে পৌঁছনোর কারণে বহু পর্যটকের হোটেল বুকিং, গাড়ি ও সাইটসিইংয়ের পরিকল্পনাও ওলটপালট হয়ে যায়।
বুধবার রাতে শিয়ালদহ থেকে ছাড়া দার্জিলিং মেল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ এনজেপিতে পৌঁছয়। দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে আটকে থাকায় যাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে স্টেশনে নেমেই জল ও খাবারের খোঁজে ছোটেন। ট্রেনে হকার না থাকায় জল কেনার সুযোগও মেলেনি বলে অভিযোগ। • নিজস্ব চিত্র।