


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল তাঁদের ব্যস্ততা। সেদিন থেকেই শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির প্রক্রিয়া। সেই ব্যস্ততা শেষ হয়েছে গত ২৯ এপ্রিল, বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন। মধ্যবর্তী এই সময়ে রাতদিন এক করে কাজ করতে হয়েছে তাঁদের। নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সম্পন্ন করেছেন এসআইআর। তাঁরা হলেন বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসার। ভোটপর্ব মিটে গিয়ে এখন রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ব্যস্ততাও ফুরিয়েছে বিএলওদের। কিন্তু এখনও রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বিএলও তাঁদের সম্পূর্ণ সাম্মানিক পাননি। পেয়েছেন অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ। নতুন সরকার কবে বিষয়টিতে নজর দেবে, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিএলওরা প্রতি বছর ভোটার তালিকা রিভিশনের কাজের জন্য ছ’হাজার টাকা করে পেতেন। এবার তা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কারণ, এসআইআরের জন্য অনলাইনে ভোটারদের তথ্য পূরণ করতে তাঁদের মোবাইলের ডেটা খরচ হয়েছে। অনেক বিএলওর কাছে স্মার্ট ফোন পর্যন্ত ছিল না। এই কাজের জন্য তাঁদের স্মার্ট ফোন কিনতে হয়েছে। এসব কারণে সাম্মানিক বাবদ ১২ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কমিশন। কিন্তু জানা যাচ্ছে, ভোট পর্ব মিটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬ হাজার টাকা করে হাতে পেয়েছেন বিএলওরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিএলওরা অর্ধেক সাম্মানিক পেলেও অসিট্যান্ট বিএলওরা এখনও কিছুই হাতে পাননি।
যদিও কমিশনের দাবি, সাম্মানিক বাবদ বরাদ্দ তারা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে। পূর্বতন রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা আটকে রেখেছিল। বকেয়া টাকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দপ্তর বহুবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও লাভ হয়নি। কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দাবি, রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তর ছাড়পত্র দিলে বহু আগেই বিএলওরা পুরো টাকা পেয়ে যেতেন। বারবার বলার পরও গত ডিসেম্বরে নবান্ন মাত্র ৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। এর মধ্যে ছিল ৮১ হাজার বিএলও, অ্যাসিস্ট্যান্ট বিএলও, ইআরও এবং এইআরওদের ভাতা। সেই টাকা ভাগ করে মাথাপিছু ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয় বিএলওদের। অথচ, বিশেষ ভাতা সহ মোট ১৪ হাজার টাকা এক-একজন বিএলওর প্রাপ্য। বিএলও সুপারভাইজাররা পাবেন ১৮ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, ভোটের কাজ মিটে গেলেও বিএলওদের এখনও ‘রিলিজ লেটার’ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন ও দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রাপ্য সাম্মানিক পেয়ে যাবেন বিএলওরা।