সংবাদদাতা, কান্দি: কৃষকবন্ধু যাচাই যেন বড় বালাই হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষিদের কাছে। আমনের মরসুমেও চাষিদের ধান রোপণের কাজ বাদ রেখে কৃষকবন্ধু যাচাইয়ের ফর্মা জমা দিতে হাজির হন ধানজমি কাজ করা শ্রমিকরা। সোমবারের এই ঘটনা বড়ঞা ব্লকের ডাকবাংলা গ্রামের কিষাণ মাণ্ডির। এদিন সেখানে ভোরের আলো ফুটতেই ফর্মা জমা দেওয়ার লাইন পড়ে যায়। বেলা বাড়তে লাইন আরও লম্বা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিষাণ মাণ্ডি চত্বরেই রয়েছে বড়ঞা ব্লক কৃষি দপ্তর। এদিন সেখানে সকাল ১০টার মধ্যেই ফর্ম জমা দেওয়ার লাইন কিষাণ মাণ্ডির গেট ছাড়িয়ে বাইরের রাস্তায় চলে আসে। তখনও অবশ্য ওই অফিসের দরজা খোলেনি। সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, কৃষি দপ্তরের যে জানালায় ফর্ম দেওয়া ও জমা নেওয়া হয়। সেই জানলার কাঁচ বন্ধ। ভিতরেও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তবে জানালার সামনে লম্বা লাইন। জানালার কাছাকাছি অন্তত ২০টি ইট পাতা রয়েছে। তারপর থেকে চাষিরা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বিপ্রশেখর গ্রামের চাষি সুবীর হাজরা বলেন, এদিন ভোর পাঁচটার মধ্যে এখানে চলে আসি। কিষাণ মাণ্ডির প্রধান গেট খোলা থাকায় আমিই প্রথম লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ি। সকাল হতেই প্রচুর লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে।
এক ঘড়িয়া গ্রামের চাষি ইকবাল শেখ বলেন, সকাল আটটায় এসে অন্তত ১০০ জনের পিছনে লাইন পেয়েছি। এদিন ধান পোঁতার কথা থাকলেও কাজ কামাই করে এখানে ফর্ম জমা করতে এসেছি। চাষি স্বপন সর্দার বলেন, কৃষকবন্ধু নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। আগের সরকারের সময় অনেক কষ্ট করে এই অনুদান পেতে শুরু করেছিলাম। এখন আবার নতুন করে কাগজপত্র জমা করতে হবে। যার ফলে ভোগান্তির আর শেষ থাকছে না।
এবিষয়ে বড়ঞা ব্লক কৃষি দপ্তরের এক অধিকর্তা জানিয়েছেন, কৃষকবন্ধু যাচাইয়ের ফর্ম জমা দেওয়ার লাইন প্রতিদিন থাকে না। তবে এদিন লাইনটা বড় ছিল। এখানে প্রত্যেকেই ফর্ম জমা করতে পারছেন, আবার ফর্ম তুলতেও পারছেন।



