নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লিতে যখন তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরছে, ঠিক তখনই সোমবার বিধানসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ঘরে হঠাৎ হাজির হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিম (ববি)। ঘণ্টাখানেক বৈঠক করলেন বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূল ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে ফিরহাদ বলেন, আমি ঋতব্রতর সঙ্গে আড্ডা দিতে এসেছিলাম। আর ঋতব্রতর বক্তব্য, ববিদার (ফিরহাদ) সঙ্গে অনেকক্ষণ অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে যে আলোচনা হয়েছে, তা বাইরে বলবার নয়।
মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফিরহাদ। কিন্তু এদিন দেখা গেল বিধানসভায় প্রবেশ করে ফিরহাদ সোজা চলে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। সেইসময় ঋতব্রতর ঘরে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ। ঋতব্রত-শামিমের মধ্যেও বেশকিছু কথা হয়। কিন্তু তার থেকেও বেশি সময় কথা হয়েছে ফিরহাদ-ঋতব্রতর মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রতর সঙ্গে কি এবার হাত মেলাচ্ছেন ফিরহাদও! তাৎপর্যপূর্ণ হল, ফিরহাদ যখন ঋতব্রতর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়ে, সেইসময় বিধানসভায় প্রবেশ করেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তাপস রায়। প্রায় একই সময়ে বিধানসভায় আসেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও অশোক দেব। দেখা গিয়েছে, তাপস-ফিরহাদ-কুণাল-অশোক কথা বলেছেন! সূত্রের খবর, কুণালকে দেখে ফিরহাদ বলেছেন, তৃণমূলের মধ্যে দুটি টিম এক থাকুক, সেটা আমি চাই। এমনকি এটাও শোনা গিয়েছে, গত শুক্রবার কালীঘাটের বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বর্ষীয়ান বিধায়ক অশোক দেবকে। সেই প্রসঙ্গটা অশোক দেবকে উল্লেখ করে তাপসবাবু বলেন, কতটা অসম্মানিত করেছে আপনাকে! এমনকি, বিধায়ক সন্দীপন সাহার সঙ্গে কুণালের কোনো একটি বিষয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতেও দেখা যায়। তবে ফিরহাদ ও শামিমের সঙ্গে কী কথাবার্তা হল, তা খোলসা করে বলতে চাননি ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, আমরা ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত চিঠি আগেই জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি বিধায়ক সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বাকিদের সমর্থনের বিষয়টি আলাদাভাবে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে চিঠি দিতে হবে। তবে অন্য তৃণমূল বিধায়করা দলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রতর হাত ধরলেও, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছি। তবে দলে ভুলের পর ভুল হলে আমি চুপ থাকব না। অন্যদিকে, জোড়াফুলের এই ভাঙন দেখে খুশি রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। তাঁর টিপ্পনী, শিসা হো ইয়া দিল হো আখির টুট জাতা হ্যায়। এটা তৃণমূলের ভবিতব্যই ছিল। অন্যদিকে, ঋতব্রতকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। আগামী ১১ জুন শুনানির সম্ভাবনা।