নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ কি এবার প্রভাব ফেলবে সুদূর মুর্শিদাবাদের আমআদমির হেঁশেলে? যুদ্ধের জেরে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় বুধবার রাত থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদজুড়ে। জেলার বহরমপুর, লালবাগ, ডোমকল ও জঙ্গিপুরে সর্বত্রই পেট্রোল পাম্পগুলিতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। বহরমপুর, লালবাগ, জিয়াগঞ্জ, বেলডাঙা, জঙ্গিপুর শহর থেকে রঘুনাথগঞ্জ, সামশেরগঞ্জ কিংবা সূতি সর্বত্রই ছবিটা এক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গভীর রাত পর্যন্ত বাইক ও গাড়ির লম্বা লাইন সামলাতে একেবারে হিমশিম অবস্থা পাম্প কর্মীদের। যদিও এখনই কোনো পেট্রলের সঙ্কট নেই। দামবৃদ্ধিরও কোনো নির্দেশিকা আসেনি বলে পাম্প মালিকদের দাবি।
জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং মুখে মুখে রটে যায় যে, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে দেশে তেলের জোগান বন্ধ হতে চলেছে। এই খবর ছড়াতেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জঙ্গিপুরের পিয়ারাপুর, তেঘড়ি ও রঘুনাথগঞ্জের পেট্রল পাম্পগুলোতে ভিড় জমে যায়। রাত বাড়লেও বাড়তে থাকে ভিড়। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর তেল ভরেন। রঘুনাথগঞ্জে জাতীয় সড়কের ধারের পাম্পগুলিতে লরি ও ছোট গাড়ির ভিড়ে জমে যায়। সামশেরগঞ্জ ও সূতি এলাকাতেও আতঙ্কের রেশ পৌঁছায়। অনেকেই বাইক ও কৃষিকাজের জন্য ড্রাম ও বোতলে ডিজেল ভরে নিয়ে চলে যান। রঘুনাথগঞ্জের দু›টি পাম্পে মজুত তেল শেষও হয়ে যায়। গ্রাহকরা পাশের পাম্পে গিয়ে পেট্রল ভরেন।
পিয়ারাপুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাম্পের লাইনে দাঁড়ানো বাইক আরোহী জাহির শেখ বলেন, শুনলাম কয়েকদিনের পর থেকে নাকি তেল পাওয়া যাবে না, পেলেও দাম বেড়ে যাবে। তাই আগেভাগেই ট্যাঙ্ক ফুল করে রাখছি।
জঙ্গিপুর শহরের এক সরকারি পাম্প মালিক মুক্তি ধর বলেন, তেলের জোগান বন্ধ হওয়ার কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্টকে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, জোগান স্বাভাবিক।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ডিলারদের একাংশ মনে করছেন, গুজবের কারণেই এই কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাঁরা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তেলের আকাল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। তেঘরি বেসরকারি পেট্রোল পাম্পের মালিক মুর্তজা শেখ বলেন, আমি ২৪ হাজার লিটার পেট্রল বুক করেছিলাম। আগাম টাকা জমা করেও ১০ হাজার লিটার পেট্রল পেয়েছি। এটা তো সঙ্কটেরই লক্ষ্মণ। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, কালোবাজারি রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র