পরামর্শে বিশিষ্ট কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ডাঃ আশিস মিত্র।
পরামর্শে বিশিষ্ট কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ডাঃ আশিস মিত্র।
মোশন সিকনেস এবং পেটের সমস্যা: দীর্ঘ পথযাত্রায় অনেকেই মোশন সিকনেসে ভোগেন। উপসর্গ বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। প্রাপ্তবয়স্করা এই সমস্যা এড়াতে, যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে অ্যাভোমিন ২৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট খেয়ে নিন। এছাড়া ভ্রমণের সময় বাইরের খাবার এবং জল থেকে ডায়ারিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দীর্ঘ যাত্রাকালে অবশ্যই নামী কোনও রেস্তোরাঁ থেকেই খাবার খাবেন। বাইরের জল খাবেন না। সম্ভব হলে মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনবেন। না পেলে যে জলই খান, তার মধ্যে জীবাণুনাশক দিয়ে খান। ওষুধের দোকানে এমন অনেক জীবাণুনাশক পাওয়া যায়। এক ফোঁটা দু’ফোঁটা জলে ফেলে খান। ডায়ারিয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাহলে ১ লিটার জলের বোতলে এক প্যাকেট ওআরএস মিশিয়ে রোগীকে অল্প অল্প করে পান করান। রোগীর ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা যাবে। ডাবের জলও পান করাতে পারেন রোগীকে। বাকি যাত্রীরাও পান করুন। ডায়ারিয়া কোনওভাবেই না কমলে, তখন ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। যাওয়ার আগে চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলে সঙ্গে রিফ্যাক্সিমিন ২০০ ওষুধটি রাখতে পারেন। ডোজও জেনে নিন। মশলাদার খাবার হজমের সমস্যা তৈরি করলে, তা দূর করতে খাবার খাওয়ার পরে প্যাংক্রিয়াটিক এনজাইম সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।
আঘাতের চিকিত্সা: হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে চোট? বেরচ্ছে রক্তও? ফার্স্ট এইড বক্সে থাক খানিকটা গজ, তুলা, রোলার ব্যান্ডেজ, সার্জিক্যাল টেপ, বিটাডাইন লোশন, সাধারণ স্যালাইন, বিটাডাইন অয়েনমেন্ট, একটি ছোট কাঁচি এবং ব্যান্ড এইড। খুব রক্ত পড়লে, থামতে চাইছে না এমন হলে আগে স্যালাইন ওয়াটার দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে তার উপর গজ দিয়ে চেপে ধরুন। কিছুক্ষণ পর রক্ত থেমে যাবে। এমনকী সামান্য কেটে গেলেও প্রথমে স্যালাইন জল দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে নিন। এরপরের চিকিত্সা ওই একই। কাটা জায়গায় একটু বিটাডাইন লোশন দিন। গজে লাগান অয়েন্টমেন্ট। এবার ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানের উপর গজ বেঁধে দিন। সার্জিক্যাল টেপ দিয়ে বাঁধন শক্ত করুন। কোনও কাটাছেঁড়া নেই? শুধু হাঁটুতে লেগেছে? ব্যথা খুব? হাজার পাওয়ারের প্যারাসিটামল দিয়ে দিন। টিপ টিপ বর্ষায় ভিজে আচমকা জ্বর এসেছে? সঙ্গে সারা শরীরে হচ্ছে ব্যথা? দিনে দু’বার খাবার খাওয়ার পর ওই প্যারাসিটামল হাজারই দিয়ে দিন পাঁচ দিনের জন্য। কিংবা ধরুন পা মচকেছে গাঁওবুড়ের থানে প্রণাম করতে গিয়ে? আহা রে! পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধে দিন রোগীর। পা একটু তুলে থাকুক সারাটা রাস্তা। ক্রেপ ব্যান্ডেজ পরেই ভ্রমণ হোক।
পোকামাকড়ের কামড় : জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে ত্বকে বেরিয়েছে র্যাশ? শিগগির পোকা কামড়ানোর জায়গায় লাগান বরফ। পাশাপাশি, চুলকানি কমাতে সাত দিনের জন্য রাতে খাবারের পর একটি করে অ্যান্টি হিস্টামিনিক ১০ মিলিগ্রাম করে খেতে পারেন অন্তত সাতদিন। ছোটদের ডোজ শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নিন।
গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি এবং ওষুধপত্র: অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক অসুখ থাকে। সেক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ওষুধগুলি খেতে হবে। বিশেষ করে ইনসুলিন নিতে ভুলবেন না। সাতদিনের জন্য বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে অন্তত ১০ দিনের ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।
শ্বাসকষ্ট: অনেকের শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে। তাই সঙ্গে রাখুন সালবুটামল ইনহেলার এবং স্পেসার ডিভাইস। নিয়মিত ইনহেলার নিন। খুব বেশি উচ্চতায় উঠতে হলে সঙ্গে ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখতে পারেন।
শেষ কথা: সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে ভ্রমণ করলে তা অনেক বেশি আনন্দদায়ক হতে পারে। ভ্রমণের আগে আপনার চিকিৎসার সমস্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং প্রেসক্রিপশন একটি ফার্স্ট এইড বক্সে গুছিয়ে নিন। তাতে আপদকালীন পরিস্থিতিতে চিকিত্সা পেতে সুবিধা হবে।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক