নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: লন্ডনবাসীদের জন্য সুখবর। প্রথমবার স্বচালিত ট্যাক্সি পরিষেবা চালু করল উবার। চালকহীন এই গাড়ি তৈরি করেছে ব্রিটিশ সংস্থা ওয়েভ। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক ফোর্ড মাসট্যাং গাড়িকে এই কাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে লাইসেন্স মঞ্জুর করেছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন। স্বচালিত হলেও আপাতত গাড়ির সামনে থাকবেন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেফটি ড্রাইভার।
ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ খাস্তগীরের কাছে লন্ডনে স্বচালিত এই গাড়ির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এর মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের জটিল রাস্তায় গাড়ির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা যাবে। একইসঙ্গে বাস্তবে এই গাড়ি কতটা সফল তা স্পষ্ট হবে। বর্তমানে ওয়ারউইক ম্যানুফ্যাকচারিং গ্রুপের (ডব্লুএমজি) সেফ অটোনমি বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন আইআইটি খড়্গপুরের এই প্রাক্তনী। প্রসঙ্গত, ডব্লুএমজি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন লর্ড ভট্টাচার্য।
সিদ্ধার্থ জন্মগ্রহণ করেছেন দিল্লিতে। মা-বাবা পেশায় চিকিৎসক। তাঁর কথায়, ‘নিরাপত্তা একটি অদৃশ্য বস্তু। খতম না যাওয়া পর্যন্ত বোঝা যায় না। বিশ্বাসের অন্যতম ভিত নিরাপত্তা।’ লন্ডনের বাসিন্দাদের রোবোট্যাক্সি ব্যবহার করে দেখতে বলেছেন সিদ্ধার্থ। তাঁর বক্তব্য, ‘সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার আরজি জানাচ্ছি।’ এই গাড়ি কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? এবিষয়ে সিদ্ধার্থর বক্তব্য, ‘কোনো প্রযুক্তি ১০০ শতাংশ নিরাপদ নয়। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ভালো ও খারাপ দিক তুলে ধরাটাই আসল কাজ।’
১২ বছর ধরে ডব্লুএমজি’তে স্বচালিত প্রযুক্তি নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করছেন সিদ্ধার্থ। এই কাজের জন্য ২০১৮ সালে সেফ অটোনমি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। একইসঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় পেভ ইউকে নামক কর্মসূচি চালু করেছেন। চালকহীন গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কার করে চলেছেন সিদ্ধার্থ। সঙ্গে রয়েছে ২৮ জন দক্ষ বৈজ্ঞানিকের টিম। সম্প্রতি আইআইটি খড়্গপুরে এসেছিলেন এই কৃতী প্রাক্তনী। সিদ্ধার্থ জানান, কিছু সমস্যা নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে পারেন ইঞ্জিনিয়াররা। তবে গাড়ি রাস্তায় নামলে আরও অনেককিছু জানা যায়। উদাহরণ হিসাবে অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের ট্রাককে জায়গা করে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। দিল্লি, কলকাতার মতো জনবহুল শহরে এই গাড়ির ব্যবহার নিয়েও কথা বলেন সিদ্ধার্থ। তিনি জানান, এই মুহূর্তে জটিল ভারতীয় রাস্তায় সম্পূর্ণ স্বচালিত গাড়ি নামানোর চেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে।