নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের কাজ হয় না। জরাজীর্ণ অবস্থায় কোনওমতে দাঁড়িয়ে রয়েছে জং ধরা পুরনো লকগেট। জোয়ারের জল ঘুরপথে ঢুকলে প্লাবিত হয় এলাকা। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার গার্ডওয়াল ভেঙে বড়সড় বিপত্তি ঘটে। তারপরেই জোরকদমে শালবল্লার ঠেকনা দিয়ে গার্ডওয়াল মেরামতির কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। কিন্তু লকগেটের বেহাল দশা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা। মহালয়ার সময় ভরা জোয়ারে ভেসে যেতে পারে সবকিছু, বলছেন তাঁরা।
প্রবল বৃষ্টির কারণে গত বৃহস্পতিবার শালিমার এলাকায় লোয়ার ফোরশোর রোড এলাকায় স্বর্ণময়ী খালের পাশে গার্ডওয়াল ধসে পড়ে। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সংলগ্ন বস্তি এলাকার পাঁচটি বাড়ি। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। এই বিপত্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে প্রশাসন। গার্ডওয়ালের বাকি অংশ যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য আপাতত শালবল্লা দিয়ে ঠেকনা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য ৮০টি বড় বড় শালগাছ নিয়ে আসা হয়েছে। যে অংশে গার্ডওয়াল ধসে পড়েছে সেখান থেকে প্রায় ৪০ ফুট পিছনেই রয়েছে পুরনো আমলের একটি লকগেট। পদ্মপুকুর থেকে আন্দুল রোড, আইআইইএসটি কলেজের পাশ দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বর্ণময়ী খাল দিয়েই বিস্তীর্ণ এলাকার জল সরাসরি গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। আশপাশে গজিয়ে ওঠা বেশ কয়েকটি বহুতল বিল্ডিং থেকেও নিকাশির জল এসে পড়ে এই খালে। আবার জোয়ারের সময় খালে বসানো লকগেট নদীর জল ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে এই লকগেট। সংস্কারের অভাবে ভূতুড়ে ঘরে পরিণত হয়েছে লকগেটের ‘কি রুম’। মরচে ধরেছে ভালভগুলিতে। ফলে সেগুলি ঠিকমতো কাজও করে না এখন। ছ’টি চেম্বারের অবস্থাও বেহাল। ছিঁড়ে গিয়েছে চেন। নিয়মিত গ্রিজ, মোবিল দেওয়া হয় না। লকগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মী সূর্যদেব পাঠক বলেন, ‘খালের পাশের বস্তিতেই আমরা থাকি। গেটের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। কোনওমতে কাজ চলছে এখন। জোয়ারের সময় খুব সতর্ক থাকতে হয়।’
সোমবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বৃষ্টি কমতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গার্ডওয়াল মেরামতির কাজ চলছে। কিন্তু লকগেটের যা অবস্থা, তাতে জোয়ারের সময় আদৌ শালবল্লাগুলি টিকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে স্থানীয়দের। অনেকেই বলেন, ‘প্রতি বছর মহালয়ার সময় বড় জোয়ার আসে। সেই সময় গোটা এলাকা ভেসে যায়। জোয়ারের তোড়ে শালবল্লাগুলি খড়কুটোর মতো ভেসে যেতে পারে।’ যদিও মাসখানেক আগে ওই এলাকায় কালভার্টের নীচে পুরনো দেওয়াল ভেঙে পাইপলাইন বসানো হয়েছে। ফলে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই দাবি হাওড়া পুরসভার। লকগেটটি কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুরসভা। নিজস্ব চিত্র