


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বরানগর-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে প্রশাসনিক স্তরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত পথে মেট্রোরেলের সম্প্রসারণের জন্য বি টি রোডের নীচ দিয়ে আসা পানীয় জলের একাধিক পাইপলাইন সরাতে হবে। ওই পাইপগুলির মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার পলতা প্রকল্প থেকে পরিস্রুত পানীয় জল এসে পৌঁছয় টালা ট্যাঙ্কে। এর জন্য পলতা থেকে টালা পর্যন্ত মাটির নীচে রয়েছে মোট ছ’টি পাইপলাইন। কোন পাইপ কত ইঞ্চির, তা জানে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু রাস্তার কতটা নীচে ঠিক কোন জায়গা দিয়ে পাইপগুলি রয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য নেই পুরসভার হাতে। বলতে গেলে, এ সংক্রান্ত কোনও ধারণাই নেই পুর কর্তৃপক্ষের। তাই ঠিক হয়েছে, পুরসভা ও মেট্রো প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে বিকাশ নিগম লিমিটেডের (আরভিএনএল) ইঞ্জিনিয়াররা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। ‘ট্রায়াল পিট’ কেটে অর্থাৎ মাটি খুঁড়ে পাইপের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা হবে। সেই মতো ঠিক হবে প্রস্তাবিত মেট্রো রুটের ‘অ্যালাইমমেন্ট’।
বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের জন্য জলের লাইন স্থানান্তর কীভাবে হবে, এর বিপুল খরচ কে বহন করবে—এই প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা চলছে। কোনও কাজই শুরু করা যায়নি। সেই সমস্যা মেটাতে গত শুক্রবার আরভিএনএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মাটির নীচে পাইপলাইনের সঠিক অবস্থান যে পুরসভার জানা নেই, বিষয়টি উঠে আসে সেখানে। তারপরই ‘ট্রায়াল পিট’ কেটে পাইপের সঠিক অবস্থান জানার সিদ্ধান্ত হয় বলে খবর।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বি টি রোডের নীচ দিয়ে যে পাইপলাইন রয়েছে, সেগুলির মাধ্যমে কলকাতার প্রয়োজনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানীয় জল সরবরাহ হয়ে থাকে। মেট্রোর পিলার বানাতে গিয়ে সেই পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজধানীতে শুরু হতে পারে পানীয় জলের সঙ্কট। তাই প্রতি পদক্ষেপে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে পুরসভা। এছাড়া, মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের তার, কেএমডিএর প্রকল্প থেকে পানীয় জল সরবরাহের একাধিক লাইনও রয়েছে। মেয়র বলেন, ‘এটা প্রাথমিক পর্যায়ের বৈঠক। দু’পক্ষের ইঞ্জিনিয়াররা বসে আলোচনা করবেন। তারপর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ করা হবে।’ তবে, পাইপলাইন সরানোর বিপুল আর্থিক খরচ মেট্রোকেই বহন করতে হবে বলে বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা। সূত্রের খবর, শীঘ্রই আরভিএনএলের অফিসে গিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে এনিয়ে বৈঠক করবেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। জল সরবরাহ বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘মাটির তলায় কোথায় কত ইঞ্চির পাইপ রয়েছে, তা আমরা মোটামুটি জানি। কিন্তু পাইপের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য বা কোনও মানচিত্র আমাদের কাছে নেই। কোথাও পাইপ ফাটলে তা মেরামতির সময় কিছু ধারণা তৈরি হয়। কিন্তু সেই ধারণার ভিত্তিতে এত বড় কাজে হাত দেওয়া ঠিক হবে না। পিলার তৈরির সময় একটিও জলের লাইন ফেটে গেলে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডানলপ থেকে বারাকপুর—এই ১২ কিমি পথেই ট্রায়াল পিট কেটে পাইপের অবস্থান জানা হবে। তারপরই বোঝা যাবে, ক’টি পাইপ কতটা সরাতে হবে, তার বদলে কত ইঞ্চির পাইপ কোন দিকে বসানো হবে ইত্যাদি।’