নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উইক-এন্ড এলেই বাইক নিয়ে রাতের শহরে বেড়িয়ে পড়া। তারপর খাওয়া-দাওয়া সেরে মধ্যরাতে বাড়ি ফেরা। এটাই ছিল ডাক্তারি পড়ুয়া আনন্দ প্রিয়দর্শী ও মহম্মদ ফৈয়াজ জামান মল্লিকের অন্যতম শখ। জোকা ইএসআইয়ের তৃতীয় বর্ষের এই দুই ছাত্র ও তাঁদের দোসর আরও দু’জন প্রতি শনিবার রাতে দু’টি বাইকে একসঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন। ঠাকুরপুকুরের জেমস লং সরণিতে দুর্ঘটনায় মৃত দুই পড়ুয়ার বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গত শনিবার রাতেও চারজন মিলে বেরিয়েছিলেন। খাওয়া-দাওয়ার পর ফিরছিলেন একসঙ্গেই। পূর্বপাড়া মোড়ের কাছে আচমকাই দ্রুত গতিতে অন্য বাইকটিকে ওভারটেক করে ফৈয়াজ-আনন্দের বাইক। তাতেই গতিতে থাকা লরির সামনে চলে আসেন তাঁরা। সরাসরি বাইকে ধাক্কা মেরে দুই সওয়ারিকে পিষে দিয়ে চলে যায় ঘাতক লরি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।
রবিবারই ঘটনার তদন্তভার নেয় লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের ফেটাল স্কোয়াড। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মৃত দুই ডাক্তারি ছাত্রের চার বন্ধুকে। তাঁদের থেকে এসব কথা জানতে পারেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতের শহরে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি বন্ধুদের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ বেরিয়েছিলেন চার যুবক। কিন্তু আচমকা বন্ধুদের বাইককে ওভারটেক করার সিদ্ধান্ত তাঁরা কেন নিয়েছিলেন? দু’টি বাইক নিজেদের মধ্যে রেষারেষি করছিল না তো? ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার পিছনের রাস্তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। জোকা ইএসআইয়ের ডাক্তারি পড়ুয়াদের বক্তব্য, আনন্দ বাইক চালাতে ভালোবাসতেন। বিশেষত, নাইট রাইড ছিল তাঁর পছন্দের। আর ফৈয়াজ খেতে ভালোবাসতেন। দু’জনের এই শখই কাল হল!
এদিকে, জেমস লং সরণিতে দুর্ঘটনার পর দ্রুত গতির লরির চলাচল নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা। পূর্বপাড়ার বাসিন্দা সোমনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘জেমস লং সরণি কি ট্রাক-ট্রেলারের মতো ভারি যানবাহনের জন্য একটি অনুমোদিত রাস্তা? রাতে যে গতিতে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।’ শিলাজিৎ সেন নামে আরও এক স্থানীয় বাসিন্দার মন্তব্য, ‘১২ চাকার লরি খুব বেশি গতিতে চলাচল করলে বাড়ির জানালা কেঁপে ওঠে। পুলিশি নজরদারি নেই।’