নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্থানীয় পঞ্চায়েতের অনুমতি না নিয়ে সেচ নালা বুজিয়ে তৈরি করা হয়েছে কালভার্ট। খবর পেয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে খোদ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। ঘটনাটি ঘটেছে জগৎবল্লভপুরের পাতিহালে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
জেলার অন্যতম কৃষিপ্রধান এলাকা জগতবল্লভপুর। এই ব্লকের পাতিহাল পঞ্চায়েতে প্রচুর ছোট-বড় সেচ নালা রয়েছে। রাস্তা বরাবর এই সেচ নালাগুলি দিয়েই জমিতে জল প্রবেশ করানো হয়। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েতের অনুমতি না নিয়ে বুধবার রাতে পাতিহালের পূর্বপাড়া এলাকায় একটি সেচ নালার উপর কালভার্ট তৈরি করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। শুধু তাই নয়, কালভার্ট তৈরির জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে নালার একাংশ বুজিয়ে ফেলা হয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাতিহাল পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান উপপ্রধান চঞ্চল চন্দ। সেচ নালা বোজানোর আগে কেন পঞ্চায়েত থেকে এনওসি নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন করেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের। এরপর স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, উপপ্রধান ও পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের গালিগালাজ করতে থাকেন তাঁরা। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে অবশেষে ফিরে যেতে বাধ্য হন উপপ্রধান।
এ নিয়ে পাতিহাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চঞ্চল চন্দ বলেন, ‘সেচ নালা বুজিয়ে ফেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেন পঞ্চায়েতের অনুমতি নেওয়া হল না, সেই প্রশ্নই করতে গিয়েছিলাম। কালভার্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ কেউ দেখাতে পারেনি। প্রতিবাদ করায় পঞ্চায়েতের এক কর্মীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে।’ এরপর জগৎবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান উপপ্রধান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের যুক্তি, আগে সেচ খালের উপরে একটি অস্থায়ী কালভার্ট ছিল। করোনার সময় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কালভার্ট বন্ধ থাকায় প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে এতদিন যাতায়াত করতে হতো বাসিন্দাদের। সেই সমস্যা মেটাতেই গ্রামবাসীদের তরফে নতুন করে কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাওড়া গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে।প