বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলতা: রাত পোহালে ভোটগ্রহণ ফলতায়। ফল বেরবে ২৪ মে। কিন্তু মঙ্গলবার ভোট প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শোয়ে বিপুল জনজোয়ারের উচ্ছ্বাস জানিয়ে দিল পদ্মফুল ফোটা সময়ের অপেক্ষা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় একযুগ ধরে জাহাঙ্গিরের ভয়ে কেউ ভোট দিতে পারতেন না। তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনো দল, বিশেষ করে বিজেপি হলে এলাকা ছাড়া হতে হয়েছে। বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ফলে বাইরে বের হয়ে অন্য দলের কথা মুখে আনার কথা এতদিন ফলতাবাসী ভাবতেই পারেননি।
পালা বদলের পর পদ্মফুলের পতাকা হাতে ও মুখে শ্রীরাম জয়ধ্বনি তুলে এদিন কাতারে কাতারে মহিলা, পুরুষ, কচিকাঁচার দল কড়া রোদ উপেক্ষা করে যেভাবে ঘরের বাইরে রাস্তার উপর এসে ভিড় করেছিল, তা হতবাক করার মতো। এমন দৃশ্য দেখার পর মুখ্যমন্ত্রীও বুঝে যান, ফলতার মানুষের মনের কথা। তিনিও বলে ফেলেন, রবিবার ভোটের ফল বেরলে ফের আসছি। প্রতিটি বুথে ৯০ শতাংশর বেশি ভোট চাই। তাতে ঘাড় নেড়ে সায় দিল জনতার আদালত। তখন তিনি জনতার দিকে তাকিয়ে ফের জানতে চান, কি বলছেন আপনারা। উদ্বেলিত জনতা ও উত্তর দিয়েছেন আসুন। আপনাকেও স্বাগত। অপেক্ষায় থাকব।
এদিন রোড শো শুরু হয় দুপুর বারোটায়। বাণেশ্বরপুর থেকে সূচনা হয়। সভা চলাকালীন আসেন মুখ্যমন্ত্রী। ততক্ষণে প্রমীলা বাহিনী ভিড় করেছেন। তিনি হাসিমনগরের মানুষ ও বোনদের বলেন, আপনাদের উপর নারকীয় অত্যাচারের কথা ভুলে যাইনি। সব কিছুর হিসাব হবে। আমাদের দলের বিধায়করা আমার কাছে সব অভিযোগ জমা দেবে। কাউকে ছাড়া হবে না। আপনাদের এখন একটাই কাজ, ভোটের দিন সকাল থেকে ভোট দিতে যাওয়া। ঘোষণা করছি, এবার বাজেটে ফলতা নিয়ে বিশেষ প্যাকেজের কথা থাকবে। রোড শো শুরু হতেই ডায়মন্ডহারবার রোডের উভয় দিকে জনতার ঢল। মহিলা থেকে পুরুষরা কেউ মালা, কেউ ছবি, কেউ বই হাতে অপেক্ষা করছে। শুভেন্দুবাবু আসতেই দৌড়ে গিয়ে তা তুলে দিচ্ছেন। হাসিমনগর, ফতেপুর হয়ে যত এগোচ্ছে ততই হাজার মানুষের মাথা। এর ভিতর পিছনের দিকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন। রাস্তার উভয় দিকের মানুষ ফুলের ডালি নিয়ে বসেছিলেন। শুভেন্দু আসতেই ফুল ও মালা তুলে দিয়েছেন। এত ফুল ও মালা মানুষ দিয়েছেন যে গাড়ি উপছে গিয়েছে। এমন হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী অনেক সময় মালা প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার গলায় পরিয়ে দিয়েছেন। দুপুরে গোপালপুরের কলাগাছিয়াতে শহিদ স্বপন মণ্ডলের বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করেন। পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দেন, দল পাশে থাকবে। বিচার হবে দোষীদের।