নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ চাই। বুধবার প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে এমনই দাবি জানালেন মধ্যমগ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডাম্পিং গ্রাউন্ড লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। প্রশাসনিক কর্তারাও এদিন বলেন যে, এই যন্ত্রণা থেকে যাতে তাঁদের চিরতরে মুক্তি দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা হচ্ছে। সেই অনুসারে এদিন থেকেই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু করল মধ্যমগ্রাম পুরসভা।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদু ঢালিপাড়ায় রয়েছে একটি ডাম্পিং গ্রাউন্ড। পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ডের আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। ফলে, আবর্জনা পাহাড়ের আকার নিয়েছে। শনিবার এখানেই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এখনও আগুন জ্বলছে ধিকধিক করে। রয়েছে ধোঁয়াও। এক বছর আগেও এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আগুন লেগেছিল। জনবহুল এলাকা থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড অন্যত্র সরানোর দাবিও জানাচ্ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এবারের অগ্নিকাণ্ডের পর সেই দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। তাই, বায়ো মাইনিং প্রযুক্তির সাহায্যে এই জঞ্জাল অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যমগ্রাম পুরসভা এবং কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে প্রশাসনিকস্তরে বৈঠকও হয়েছে। এরপরই মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়্যারম্যান নিমাই ঘোষ সহ জঞ্জাল দপ্তরের আধিকারিকরা, বারাসতের এসডিও সোমা দাস এবং কেএমডিএ’র এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এদিন ডাম্পিং গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৬-৮ মাসের মধ্যে পাহাড়সম আবর্জনার স্তূপ কেটে একেবারে সমতল করা হবে। এরপর সেখানে তৈরি হবে স্যানিটারি পিট বা ল্যান্ডফিল। এই ল্যান্ডফিলে রোজ শহরের জঞ্জাল ফেলা হবে। একটা ল্যান্ডফিল ভর্তি হয়ে গেলে বর্জ্য পৃথকীকরণ করে বায়ো মাইনিং প্রযুক্তিতে জঞ্জাল অপসারণ হবে। এর মাধ্যমে মাটি ও জৈব সার উৎপন্ন হবে। বাকি প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা টেন্ডার করিয়ে সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সমীর আলি বলেন, এক বছর আগে আগুন লাগার পরেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ কিছু হয়নি। এই প্রসঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, সমস্যা সমাধান আমরা করতে উদ্যোগী হয়েছি। সময় কিছুটা লাগবে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের চারদিকে রাস্তা তৈরির কাজ ও সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে জল সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। বারাসতের মহকুমা শাসক সোমা দাস বলেন, বায়ো মাইনিং-এর জন্য কেএমডিএ দ্রুত টেন্ডার করবে।