নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্নীতির সঙ্গে কোনও অবস্থায় আপস নয়। এটাই তৃণমূলের ঘোষিত অবস্থান। অনৈতিক কাজে কেউ যুক্ত হলে, সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে দল কড়া ব্যবস্থা নিতে পিছপা হয় না, সেটাও দেখা গিয়েছে তৃণমূলের পদক্ষেপে। কিন্তু তারপরেও স্থানীয় স্তরে কয়েকজন নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘টাকা’ চাইছে, এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি সরাসরি গিয়েছে ‘দিদির দরবারে’।
প্রতি বরিবার কালীঘাট মিলন সঙ্ঘে ‘দিদির দরবার’ কর্মসূচি হয়। সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষ অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা জানাতে পারেন। সেইমতো সহযোগিতা করা হয়। আবার কোনও অভিযোগ জানানো যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কের নাম করে স্থানীয় নেতা ‘টাকা’ চাইছেন, এমন অভিযোগ এসেছে। প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে ‘বকশিশ’ চাওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে এমন অভিযোগ এসেছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনে সংশ্লিষ্ট বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাজ্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই বিধায়করা জানিয়ে দেন এমন কোনও বিষয় নেই। যে বা যাঁরা বিধায়কের নাম ভাঙাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি কাজে কাউকে টাকা দেবেন না। যদি কেউ টাকা চায়, তাহলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হোন। ফলে ওই দুই জেলায় স্থানীয় কোন নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘টাকা’ চাইছেন, সেই সম্পর্কে বিশদে খোঁজ খবর শুরু করে দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব।
সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা সাধারণ মানুষকে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। সেখানে সরকারি কাজে কোনোরকম টাকা-পয়সা নেওয়া হয় না। তা গত ২৪ এপ্রিল ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের একটি কর্মসূচি থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, সরকার কোনও টাকা-পয়সা নিয়ে কাজ করে না। জমি-বাড়ি কেনা কিংবা বিনিয়োগ করার আগে সবদিক ভালোভাবে মানুষজন যাতে খোঁজখবর নেন, সেই সমাজিক বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।