


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই হাওড়া গ্রামীণ জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভূমিপুত্রদের প্রার্থী করার দাবি জোরদার হল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, নির্বাচনের লড়তে বহিরাগত প্রার্থীদের নিয়ে আসা হলে ভোটের পর দলীয় কর্মসূচিতে কর্মীদের পাশে থাকতে দেখা যায় না তাঁদের। সেই কারণে এবারের নির্বাচনে ভূমিপুত্রদের টিকিট দেওয়ার দাবি তুলেছে স্থানীয়রা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া গ্রামীণ জেলার ৭টি আসনের সবগুলিতে তৃণমূল প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন। এমনকি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির পরাজয় হয়েছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া গ্রামীণ জেলার উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর এবং আমতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বহিরাগত প্রার্থী দিয়েছিল। উলুবেড়িয়া দক্ষিণে পাপিয়া অধিকারী, শ্যামপুরে তনুশ্রী চক্রবর্তী এবং আমতায় দেবতনু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী তৃণমূল প্রার্থী পুলক রায়ের কাছে ২৮ হাজার ৪৩৮ ভোটে পরাজিত হন। শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তনুশ্রী চক্রবর্তীকে ৩১ হাজার ৫১১ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক কালীপদ মণ্ডল। আমতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক সুকান্ত পাল বিজেপি প্রার্থী দেবতনু ভট্টাচার্যকে ২৬ হাজার ২০৫ ভোটে পরাজিত করেন। শুধু তাই নয়, গত বিধানসভা নির্বাচনে উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুমিত কাঁড়ার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। আর এইসব কারণে এবার নির্বাচনের আগে থেকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছে। শ্যামপুর ও উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মীর বক্তব্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তনুশ্রী চক্রবর্তী এবং পাপিয়া অধিকারীকে একদিনের জন্য এলাকায় দেখা যায়নি। এমনকি দলীয় কর্মসূচিতে ও তাঁদের দেখা যায়নি। ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সেই কারণে এবার আমরা সবকটি কেন্দ্রে ভূমিপুত্র চাইছি।
অন্যদিকে, দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি দেবাশিস সামন্ত। তিনি বলেন, আমিও দলীয় নেতৃত্বের কাছে জেলার ৭টি কেন্দ্রে স্থানীয় কার্যকর্তাকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছি। সেইমত আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমরা মেনে নেব। আমাদের আশা দল এই দিকটার দিকে নজর দেবে বলে জানান দেবাশিস সামন্ত। তাঁর দাবি, আমরাই জিতব। বিজেপির এই বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলে দাবি করেছেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আহ্বায়ক তথা উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা। তিনি বলেন, বিজেপির বহিরাগত বা ভূমিপুত্র প্রার্থী হোক আমরা এটা নিয়ে ভাবছি না। কারণ শুধু হাওড়া গ্রামীণ জেলা নয়, হাওড়া জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে একটিও বিজেপি পাবে না বলে দাবি করেন সমীর পাঁজা।