Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লালগড়ে সিপিএম নেতা খুনের মামলায় ধৃত বিজেপি নেতার বাবা

লালগড়ে সিপিএম নেতা খুনের মামলায় ধৃত বিজেপি নেতার বাবা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম ও কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আগে লালগড় অশান্ত হয়ে উঠেছিল। সিপিএম কর্মী প্রবীর মাহাত ২০০৯ সালে খুন হন। ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত সন্তোষ মাহাতকে বুধবার গ্ৰেপ্তার করে এনআইএ। তার বাড়ি বিনপুর-১ ব্লকের ধরমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুলাগেড়িয়া গ্রামে। ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ধৃতের ছেলে বিজেপি নেতা অনুপ মাহাত। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়েছে। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাত বলেন, এনআইএ একটি স্বতন্ত্র সংস্থা। সেখানে দলের কোনও বক্তব্য থাকতে পারে না। আইন আইনের পথে চলবে।
Advertisement
রাজ্যে পালাবদলের ঠিক আগে বিনপুরে সিপিএম কর্মী প্রবীর মাহাত খুন হন। ওই ঘটনায় এনআইএ ৩৩ জনের নামে চার্জশিট জমা দিয়েছে। তদন্তকারী দল সন্তোষকে একাধিকবার গ্ৰেপ্তার করতে বাড়িতে এসেছিল। শারীরিক অসুস্থতার জন্য গ্রেপ্তার করতে পারেনি। জেলা পুলিস সূত্রের খবর, এনআইএ একাধিকবার তলব করার পরেও অভিযুক্ত হাজিরা দেয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে কলকাতার এনআইএ’র বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন জঙ্গলমহলের তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাত। যদিও তিনি বার বার দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই আমাদের এই মিথা মামলায় জড়িয়েছে। এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কৌঁসুলির বক্তব্য, প্রয়োজনে ধৃতকে জেলে গিয়ে জেরা করার জন্য আর্জি জানানো হবে।                           
ধৃতের ছেলে তথা বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি অনুপ মাহাত বলেন, ‘বাবাকে রাজনৈতিক স্বার্থে খুনের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। বাবা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এনআইএ একপ্রকার জোর করে তুলে নিয়ে যায়।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, ‘সেই সময় লালগড়ে দলের বহু নেতা-কর্মী খুন হন। প্রবীর মাহাতদের মতো কর্মীদের হারিয়ে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’ জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূন ভৌমিক বলেন, ‘বাম আমলে তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন। হার্মাদদের হাতে একাধিক নেতা-কর্মী খুন হন। রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর এখানে খুনোখুনির রাজনীতি বন্ধ হয়েছে। জনসমর্থন হারানো সিপিএম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকতে পারবে না।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ