Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬

লীলাবতীতে সইফ যেতেই মঞ্জুর ২৫ লাখ, তারকার ক্যাশলেস চিকিৎসা নিয়ে ক্ষুব্ধ ডাক্তাররা, তদন্ত চেয়ে চিঠি

লীলাবতীতে সইফ যেতেই মঞ্জুর ২৫ লাখ, তারকার ক্যাশলেস চিকিৎসা নিয়ে ক্ষুব্ধ ডাক্তাররা, তদন্ত চেয়ে চিঠি
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
মুম্বই ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মাত্র পাঁচদিন! নিজের বাড়িতেই এক দুষ্কৃতীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পাঁচদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলিউড তারকা সইফ আলি খান। তাতেই বিল গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭০০ টাকায়। হবে না কেন, লীলাবতী তো যে সে হাসপাতাল নয়! এ দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। শচীন তেন্ডুলকর থেকে অমিতাভ বচ্চন, দলাই লামা— কে এখানে চিকিৎসা করাননি। ফলে সইফের বিল নিয়ে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু যে বিষয়টি সকলকে অবাক করে দিয়েছে তা হল, অভিনেতার স্বাস্থ্যবিমা। গত ১৬ জানুয়ারি ভোররাতে লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হন সইফ। আর মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ক্যাশলেস চিকিৎসার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করে দেয় বেসরকারি একটি স্বাস্থ্যবিমা সংস্থা। সূত্রের খবর, বিপুল অঙ্কের বিলের কোনও টাকা অভিনেতাকে দিতে হয়নি। তাতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কই আম জনতার ক্ষেত্রে তো বিমা সংস্থাগুলির এমন তৎপরতা চোখে পড়ে না? জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্যাশলেস পরিষেবা পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় সাধারণ মানুষকে। কিন্তু রুপোলি পর্দার নায়কের জন্য কোনও ঝক্কিই নেই। কেন এই বৈষম্য? এই প্রশ্ন তুলেই এবার বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআইয়ের কাছে গোটা ঘটনায় তদন্তের দাবি জানাল মুম্বইয়ের এক চিকিৎসক সংগঠন।
Advertisement
কী বলবেন গোটা বিষয়টিতে? এক্ষেত্রে খ্যাতি তো বিড়ম্বনা নয়, বরং সুবিধাই করে দিয়েছে। দেশের সব ক্ষেত্রেই এমন সুবিধা পেয়ে থাকেন খ্যাতনামা তারকারা। কেন তাঁরা সর্বদা বিশেষ ছাড়পত্র পাবেন? এই প্রশ্নই তুলেছে মুম্বইয়ের অ্যাসোসিয়েশন অব মেডিক্যাল কনসালট্যান্টস (এএমসি)। ১৪ হাজারেরও বেশি ডাক্তার জড়িয়ে রয়েছেন এই সংগঠনের সঙ্গে। তাঁদের সাফ কথা, এটা বৈষম্যমূলক আচরণের নিকৃষ্টতম উদাহরণ! যে বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ, তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, ‘সইফ আলি খান আমাদের একজন পলিসি হোল্ডার। তিনি হাসপাতালে ভর্তির পরই আমাদের কাছে ক্যাশলেস পরিষেবা অনুমোদনের অনুরোধ আসে। আমরা চিকিৎসা শুরুর জন্য প্রাথমিকভাবে সেই টাকা মঞ্জুর করি।’ এই প্রক্রিয়াটি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন এএমসির মেডিকো লিগ্যাল সেলের প্রধান ডাঃ সুধীর নায়েক। তিনি বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকার অনুমোদন সাধারণত দেখা যায় না। সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে এধরনের কেসে সেই প্রক্রিয়া বেশ লম্বা। কারণ, এফআইআরের কপি জমা করতে হয়। সম্ভবত তারকা হওয়ায় সইফকে তা দিতে হয়নি। তারকাদের জন্য কেন আলাদা নিয়ম? বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছে এএমসি। বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে লেখা চিঠিতে চিকিৎসক সংগঠন আরও জানিয়েছে,  সব শ্রেণির গ্রাহকদেরই সমান পরিষেবা প্রাপ্য। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এহেন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়টি আটকাতে কড়া নিয়ম চালু হোক।
বিতর্ক অবশ্য আরও রয়েছে। সইফকাণ্ডে প্রথমে মধ্যপ্রদেশের দুর্গ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কোলাবার বাসিন্দা আকাশ কানোজিয়া। পরে পুলিস নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পুলিসের এই ভুলের জেরেই চাকরি হারিয়েছেন তিনি। এমনকী তাঁর বিয়েও ভেঙে গিয়েছে।  পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বাংলাদেশি নাগরিক মহম্মদ শরিফুকে। ধৃতের মোবাইলের সিম কার্ডটির সূত্র ধরে রবিবারই বাংলায় হানা দিয়েছিল মুম্বই পুলিসের টিম। সোমবার নদীয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার দুর্গাপুরে খুকুমণি নামে এক মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে তারা। তবে শরিফুলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তারপরই মুম্বইয়ের তদন্তকারীরা ফিরে যান।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ