Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মায়ের কোলে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবে ‘ছোট্ট’ নিশা, চোখে সরকারি চাকরির স্বপ্ন

ছোট থেকেই লড়াই করে চলেছে গাইঘাটা মহিষাকাটির বাসিন্দা ‘ছোট্ট’ নিশা। জন্মের পর থেকেই বিশেষ রোগে আক্রান্ত সে।

মায়ের কোলে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবে ‘ছোট্ট’ নিশা, চোখে সরকারি চাকরির স্বপ্ন
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: ছোট থেকেই লড়াই করে চলেছে গাইঘাটা মহিষাকাটির বাসিন্দা ‘ছোট্ট’ নিশা। জন্মের পর থেকেই বিশেষ রোগে আক্রান্ত সে। উচ্চতা মাত্র তিন ফুট। ভালো করে দাঁড়াতে পারে না। মা তার একমাত্র অবলম্বন। মায়ের কোলে করে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবে নিশা। তাঁর চোখে স্বপ্ন। আগামীতে সরকারি চাকরি করতে চায় সে। স্বপ্নকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নিশা চক্রবর্তী (১৬)। গাইঘাটা ব্লকের পাঁচপোতা ভারাডাঙা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরে রামচন্দ্রপুর পল্লি উন্নয়ন বিদ্যাপীঠ।

Advertisement

পঞ্চম শ্রেণী থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছাত্রী নিশা। শিক্ষকদের কাছেও প্রিয় সে। সহপাঠীরা যখন পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেলে করে স্কুলে আসে, তখন মায়ের কোলে করে স্কুলে আসতে হয় তাঁকে। বাবা দেবকুমার চক্রবর্তী ফুচকা বিক্রেতা। মা শ্যামলী চক্রবর্তী গৃহবধূ। দুই মেয়ের মধ্যে নিশা বড়। ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। অর্থের অভাবে মেয়ের ঠিকঠাক চিকিৎসা করাতে পারেন না বাবা-মা। তবে হেরে যাওয়ার পাত্রী নয় সে। আর মেয়েকে বাবা-মা সব সময় মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন।

পড়তে গেলে খুব কষ্ট হয় নিশার। লিখতে গেলে হাত কাঁপে। তবুও তাঁর দু’চোখ ভরা স্বপ্ন। জীবনে বড় হবে। একটা ভালো চাকরি করবে। বাবা মায়ের স্বপ্নপূরণ করবে। নিশা বলে, আগামীতে সরকারি চাকরি করতে চাই। বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতেও ভালো লাগে তার। ইটের দেওয়াল ও ত্রিপলের ছাউনির ছোট্ট ঘর। জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকে নিশা। চোখের সামনে ভেসে ওঠা ছবি ফুটিয়ে তোলে সাদা কাগজে। ইচ্ছা করে অন্যদের মতো খেলাধুলা করতে। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে। তবে মনের ইচ্ছাকে থামাতে পারেনি কোনো প্রতিবন্ধকতা। এগিয়ে চলেছে নিশা। অভাবের সংসারে সরকারি এক হাজার টাকার মানবতা ভাতা পেলেও তাতে খুশি নয় সে। তার মতে, কোনো ভাতা নয়, পড়াশুনা করে একটি সরকারি চাকরি পেতে চাই।

বাবা দেবকুমার চক্রবর্তী বলেন, মেয়ের ইচ্ছাই আমাদের সব। ও একটা চাকরি পেলে মেয়ে ও মায়ের এই লড়াই সার্থক হবে। মা শ্যামলীদেবী বলেন, মেয়ে যত দুর পড়তে চাইবে, কষ্ট করে হলেও আমরা ওকে পড়াব। ওর স্বপ্নপূরণ হয়েছে, বাস্তবে সেটাই দেখতে চাই।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ