শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ‘কামিংসদা, দু’গোল চাই। ওদের হারাতেই হবে।’ প্র্যাকটিসের পর জেসন কামিংসের গাড়ির উপর প্রায় হামলে পড়লেন শ’খানেক সমর্থক। কাচ অল্প নামিয়ে অজি বিশ্বকাপারের উত্তর-‘আরামসে, ভাই আরামসে। জয় মোহন বাগান।’ মুহূর্তে হাউইয়ের মতো আকাশ ছুঁল জয়ধ্বনি। মনে হতে বাধ্য, এই বোধহয় বেঙ্গালুরুর জাল কাঁপিয়ে এলেন সোনালি চুলের তারকা ফুটবলার। লিস্টনদের ঘিরেও ট্রফি জয়ের আব্দার। মোদ্দা কথা, শনিবারের ধুন্ধুমার লড়াইয়ের আগে ফুটছে মোহন বাগান।
খেতাবি লড়াই। মাঠের বাইরে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ চলছে পুরোদমে। শুক্রবার সকালের ফটোসেশন শুরু হয় প্রায় আধঘণ্টা দেরিতে। জানা গেল, শুভাশিস বসু কিছুটা দেরিতে পৌঁছতেই পিছিয়ে দেওয়া হয় অনুষ্ঠান। ঠিক যেন ইডেনে সেই বিখ্যাত ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টের ছায়া। টসের আগে দুঁদে স্টিভ ওয়াকেও তো অপেক্ষা করিয়ে ছেড়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া, ওহে এটা কলকাতা। দম থাকলে জিতে দেখাও। সৌজন্যের আড়ালে চ্যালেঞ্জ। যেন আগাম ঝড়ের অপেক্ষা। হোসে মোলিনাও কম যান না। প্রতিপক্ষকে ধাঁধায় রাখতে দল নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত রাখলেন। প্রথম ক্ষেত্রে স্টুয়ার্টকে মাঝমাঠে রেখে কামিংসকে প্রথম একাদশে খেলানো হয়। প্ল্যান ‘বি’ হিসাবে কামিংস আর ম্যাকলারেন কম্বিনেশন তৈরি। সেক্ষেত্রে ডাগ-আউটে থাকবেন গ্রেগ। তবে মনবীর, লিস্টনের মুভমেন্ট অনেক চনমনে। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে জোড়া উইং হাফের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছন্দ পেয়ে গেলে সহজে ওভারল্যাপে আসতে পারবেন না রোশন সিং বা রাহুল ভেকে। মাঝমাঠে বক্স টু বক্স মিডিও আপুইয়ার ছোট্ট কাঁধে বড় দায়িত্ব। বল স্ন্যাচ করার পাশাপাশি গোল করতে পারেন মিজো ফুটবলার। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে সংযোজিত সময়ে দুরন্ত লক্ষ্যভেদ করে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন আপুইয়া।
যথারীতি টিকিট নিয়ে হাহাকার তুঙ্গে। ম্যাচের আয়োজনে এফএসডিএল। তাই তাদের হাতেই বেশিরভাগ টিকিট। শুক্রবার বিকেলে মোহন বাগান তাঁবুতে প্রচুর মানুষের ভিড়। চাহিদার তুলনায় টিকিট অমিল। পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে কোনওরকমে অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টায় মোহন বাগান সচিব দেবাশিস দত্ত। কয়েক হাত দূরে প্রাক্তন সচিবের অফিসেও একই অবস্থা। রাত পর্যন্ত অমিল টিকিট। অন্যদিকে, যুবভারতীর আনাচে কানাচে টিকিটের কালোবাজারি চলছে পুরোদমে। তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে টিকিট। সুভাষ সরোবরের আশেপাশে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই কানে আসবে ফিসফাস। ‘টিকিট লাগবে দাদা?’ সাধারণ ফুটবলপ্রেমী মানুষ মাথা খুঁড়ে মরছেন। অথচ বজ্রআঁটুনির পরেও কালোবাজারির হাতে এত টিকিট এল কী করে?
সম্ভাব্য একাদশ: বিশাল, আশিস, আলড্রেড, আলবার্তো, শুভাশিস, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর, লিস্টন, স্টুয়ার্ট/ম্যাকলারেন ও কামিংস।