আর্লিংটন: ৩২ বছর আগের এরকমই এক জুন। মধ্যাহ্নেই আর্জেন্তিনার শিবিরে নেমে এসেছিল ঘোর অন্ধকার। নিষিদ্ধ ড্রাগ ‘এফিড্রিন’ নেওয়ায় বিশ্বকাপের মাঝপথেই ফিফার নির্বাসনের কবলে পড়েছিলেন ডিয়েগো মারাদোনা। বালগেরিয়া ম্যাচের আগেই জাতীয় শিবির ছাড়তে হয়েছিল ফুটবলের রাজপুত্রকে। অনুশীলনে এসেও মাঠে নামা হয়নি তাঁর। চোখের জলেই ডালাস স্টেডিয়ামে ছেড়েছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র। সমর্থকদের হৃদয়ও ভেঙে চুরমার। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ তিন দশক। সোমবার সেই ডালাসেই খেলতে নেমেছিল আর্জেন্তিনা। তবে এবার উল্লাস আর এক আকাশ খুশি নিয়ে মাঠ ছাড়ল আলবিসেলেস্তেরা। মারাদোনার বিসর্জনের মাঠেই রেকর্ড গড়লেন লিও মেসি। শাপমোচন ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়।
বুধবার ৩৯ বছরে পা দিলেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। প্রিয় ফুটবলারের জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে শুভেচ্ছার বন্যা। ডালাস থেকে ইতিমধ্যেই বেস ক্যাম্প কানসাস সিটিতে ফিরে গিয়েছে আর্জেন্তিনা দল। সেখানেই সতীর্থদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেন এলএমটেন। তবে ডালাস ছাড়ার আগেই গোটা দেশবাসীকে বার্থডের রিটার্ন গিফট দিয়েছিলেন তিনি। গত সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসির জোড়া গোলে সহজ জয় পায় আর্জেন্তিনা। ম্যাচে পেনাল্টি মিস না করলে, টানা দু’ম্যাচে হ্যাটট্রিকের নজির গড়তে পারতেন বাঁ পায়ের জাদুকর। তবে ম্যাচ শেষে যদিও সেই আক্ষেপের রেশ বিন্দুমাত্র ছিল না তাঁর শরীরী ভাষায়। বরং অনেক বেশি প্রাণবন্ত দেখায় তাঁকে। এমনকি, ম্যাচের পুরো সময়টাই তাঁর ঠোঁটের কোণে দেখা গিয়েছিল মৃদু হাসি। হয়তো মনে মনে নিজের আইডল মারাদোনাকে বলছিলেন, ‘যে মাঠ তোমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল, সেখানেই আমরা বিজয় পতাকা ওড়ালাম।’
মেসি বরাবরই জন্মদিন নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখান না। বছরের এই সময়টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গেই তাঁর কাটে। এবারও অন্যথা হয়নি। তবে ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করতে কোনোরকম খামতি রাখছেন না অনুরাগীরা। ইতিমধ্যেই আর্জেন্তিনার পাতাগোনিয়াতে গড়ে তোলা হয়েছে ৮৩ ফুটের এক বিশাল মূর্তি। ৭০ টনের স্টিল দিয়ে গড়া এতো বড়ো মাপের মূর্তি এর আগে কোথাও গড়ে তোলা হয়নি। গত ডিসেম্বরে কলকাতায় এসেছিলেন বাঁ পায়ের জাদুকর। সেসময় লেকটাউনে তাঁর ৭০ ফুটের মূর্তি গড়া হলেও, পরবর্তী সময়ে তা সরিয়ে দেওয়া হয়।