Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গের মতো বেলপাহাড়ীতেও জঙ্গল সাফারি

শাল মহুয়ার ঘন জঙ্গল। ছোট বড় টিলা । পাহাড়ী ঝর্ণা। জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় বন্য প্রাণীরা। পর্যটকরা দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন।

উত্তরবঙ্গের মতো বেলপাহাড়ীতেও জঙ্গল সাফারি
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি , ঝাড়গ্ৰাম: শাল মহুয়ার ঘন জঙ্গল। ছোট বড় টিলা । পাহাড়ী ঝর্ণা। জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় বন্য প্রাণীরা। পর্যটকরা দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। উত্তরবঙ্গের মতো বেলপাহাড়ীতে এবার চালু হবে জঙ্গল সাফারি।  প্রকৃতির কোলে পর্যটক পার্ক গড়ে তোলা হবে। আদিবাসী সমাজের  সাংস্কৃতিক উৎসব দেখার সঙ্গে জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের খাবারের স্বাদ মিলবে। বেলপাহাড়ী বিভিন্ন পর্যটনস্থল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন বিধায়ক প্রণত টুডু।

Advertisement

বর্ষা আসতে খুব বেশি দেরি নেই। বর্ষার সময় বেলপাহাড়ীরছোট পাহাড়ী নদীতে জল বেড়ে যায়। ডুলুং, কাঁকড়াঝোর নদীতে জলের স্রোত বেড়ে যায়। পাহাড়ী উপত্যকার পথের দু'পাশে বনফুলের দেখা মেলে। পাহাড়ী ঝর্ণায় বনের পশুপাখিরা জল খেতে আসে। আষাঢ়-শ্রাবণে পাহাড়পুজো ঘিরে গ্ৰামের মানুষ মেতে ওঠেন। বনের পথে হরিণ ও  ময়ুরের দল ঘুরে বেড়ায়। যার আকর্ষণে পর্যটকরা এখানে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন। বেলপাহাড়ী এলাকায়  গাডরাসিনী, ঢাঙ্গীকুসুম, খ্যান্দারানী হ্রদ, ঘাগড়া জলপ্রপাত, তারফেনী ব্যারেজ, ডুলুং নদীর উৎসস্থল, লালজল গুহা, টুয়ারপাহাড়ের ঝর্ণা, কাঁকড়াঝোর জঙ্গলের মতো পর্যটনস্থল রয়েছে। জেলায় রাজনৈতিক আস্থিরতা মিটতেই পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটনের প্রসারে আদিবাসী যুবক যুবতীদের গাইডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বেলপাহাড়ী বাজার থেকেগাডরাসিনী ,গজ পাহাড়,ঘাগড়া,তারাফেনী ব্যারেজ এখন সহজে যাওয়া যায়। বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে বনদপ্তরের ক্যামেরায়  ভাল্লুক , হরিণ, নেকড়ের ছবি একাধিকবার ধরা পড়েছে। ফলে জঙ্গল সাফারির মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।পূর্বে ঝাড়গ্ৰাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে হুডখোলা গাড়িতে জঙ্গল সাফারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিওতা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল হতেই উন্নয়নমূলক কাজে তৎপরতা শুরু হয়েছে।জেলার চারটি আসন থেকে বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।বিনপুর বিধানসভা থেকেবড় মার্জিনে প্রণত টুডু জয়ী হয়েছেন । শপথ গ্ৰহণের পরে তিনি নিজের বিধানসভার এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। প্রণতবাবু এদিন বলেন,উত্তরবঙ্গের মতো বেলপাহাড়িতে জঙ্গল সাফারি চালু করা হবে। জঙ্গলমহলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের নৃত্য ও লোকসংস্কৃতির স্বাদ যেন পর্যটকরা নিতে পারেন, তার জন্য একটি পর্যটক পার্ক গড়ে তোলা হবে। এছাড়া আদিবাসী সংস্কৃতি উপভোগ করার পাশাপাশি এখানকার বিভিন্ন ট্রাইবাল খাবারের স্বাদও এবার নিতে পারবেন।  পার্কের ভিতরেই তৈরি হবে ট্রাইবাল খাবারের দোকান। পাহাড়ও জঙ্গলের ভিউপয়েন্টগুলির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ওয়াচটাওয়ার তৈরিও করা হবে। বেলপাহাড়ী টুরিজ্যম অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য বলেন, বেলপাহাড়ি চাতন পাহাড়ও চিতিপাহাড়ের মাঝে রোপওয়ে তৈরি করে নেচারপার্ক ও ঘাঘরা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হলে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। বিধায়কের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। ঝাড়গ্ৰাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশীষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জঙ্গল সাফারির মতো উদ্যোগ বেলপাহাড়ীর পর্যটনে প্রসার ঘটাবে। স্থানীয় যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান হবে। এলাকার মানুষের আর্থিক উন্নয়ন হবে । বিধায়কের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা সুনীল হেমব্রম বলেন, পর্যটনের মরশুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। আমরা খাবারের দোকান বসাই। জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। রোজগার বাড়বে।-নিজস্ব  চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ