নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবার তাদের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানিয়েছে, নিম্নচাপটি শক্তি বাড়াতে পারে। মে মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হলে সেটি নিয়ে উদ্বেগের বিষয় থাকে। কারণ সেটি আরো শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এবারে এপ্রিল-মে মাসের প্রাকবর্ষা ঘূর্ণিঝড় মরশুমে এই প্রথম বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে।
বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেল বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১০ মে-র আশপাশে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং লাগোয়া পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপ তৈরি হবে। তারপর ১৩-১৬ মে নাগাদ এটি কিছুটা শক্তি বাড়াতে পারে। নিম্নচাপটি কোন দিকে যাবে সেই ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি অনুযায়ী শক্তি বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট দিকে অগ্রসর হয়। ২০১৯ সালে মে মাসের গোড়ায় যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল সেটির উৎপত্তি বঙ্গোপসাগরের এই অংশে হয়েছিল বলে প্রবীণ আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
এদিকে রাজ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে ঝড়বৃষ্টির দাপট চলছে। বৃহস্পতিবার কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে নানা জায়গায় দিনভর ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর কলকাতা ও লাগোয়া কিছু এলাকায় জোরালো বৃষ্টির সঙ্গে হাওয়া প্রবাহিত হয়। কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ‘কমলা’ ও ‘লাল’ সতর্কতা জারি করা হয়। আগামী ১৩ মে পর্যন্ত এই ঝড়বৃষ্টি চলবে বলে আপাতত আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। আজ শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গে ও উত্তরবঙ্গের কোথাও ‘কমলা’ সতর্কতা নেই। তবে ‘হলুদ’ সর্তকতা আছে একাধিক জেলার জন্য। আবহাওয়া কর্তা জানান, আজ ঝড়বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কম হতে পারে। তবে আগামীকাল শনিবার ঝড়বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় ‘কমলা’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলাগুলির কোনো কোনো জায়গার জন্য শনিবার ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে। সাধারণভাবে সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হবে। ঝড়বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের জন্য তাপমাত্রা কমে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি কম ছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২৫.৮ ডিগ্রি) ছিল স্বাভাবিকের নীচেই। কলকাতায় বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩১.৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বীরভূমের মুরারই ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সর্বাধিক ৪০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।