সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের কামালপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করল বিজেপি। সমিতির মোট ৯টি আসনেই অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের পরে মঙ্গলবার নির্বাচন আধিকারিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করেন। এর ফলে দীর্ঘ ২৫ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটল এই সমবায়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কামালপুর সমবায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সাধারণ গ্রাহকদের ফিক্সড ডিপোজিট এবং সেভিংস অ্যাকাউন্টের প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে সমবায়ের ম্যানেজার ও কর্মীদের বিরুদ্ধে। গ্রাহকরা নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গেলে নানা অজুহাতে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। সমবায় সমিতির সহকারী নিবন্ধকের দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো সত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এমনকি বছর খানেক আগে এই সমবায়ের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হলেও অশান্তির আশঙ্কা ও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তৎকালীন তৃণমূল নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসন নির্বাচন বানচাল করে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর সমবায়ের ম্যানেজার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সমবায়ের কাজকর্ম, যার ফলে চরম বিপাকে পড়েন এলাকার গ্রাহকরা।
অবশেষে রাজ্যে পালাবদল হতেই গত ২০ মে এই সমবায়ের আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে আসেন দপ্তরের জেলা প্রশাসনিক কর্তারা। তাঁরা গ্রাহকদের উপস্থিতিতে সমবায় খোলার পাশাপাশি অভিযোগ শোনেন ও বেশকিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেন। এরপরই ৯টি আসনের এই সমবায়ে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। গত ১০ জুলাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিনে বিজেপি ছাড়া অন্য কোনো দল অংশ নেয়নি। নিয়মানুযায়ী এদিন ন’জন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা।
এ বিষয়ে বিজেপির এসসি মোর্চার জেলা সভাপতি ঝলক মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর এই সমবায়ে ভোট হতে দেওয়া হয়নি। প্রথমে সিপিএম এবং পরে তৃণমূল এটি দখল করে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে। গ্রাহকদের ৯০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এবার হার নিশ্চিত জেনেই বিরোধীরা ভয়ে ভোটে দাঁড়ানোর সাহস পায়নি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সমবায় সচল হওয়া এবং নতুন পরিচালনা সমিতি গঠিত হওয়ায় এবার নিজেদের জমানো অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন প্রতারিত গ্রাহকরা।