নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মহিষাদল থানার কাঞ্চনপুর জালপাই গ্রামে ১১৬নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে হোটেলে নাবালিকাদের আটকে রেখে দেহ ব্যবসা চলত। তাদের সেক্স ওয়ার্কার হিসেবে ব্যবহার করে মোটা টাকা কামাই করত হোটেল মালিক, ম্যানেজার। ২০১৩সালের সিআইডিরএকটি মামলায় সোমবার ওই এলাকার সঙ্কল্প হোটেলের মালিক প্রশান্ত ভক্তা ও ম্যানেজার দুলাল প্রামাণিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল পূর্ব মেদিনীপুরের পসকো কোর্ট। এছাড়া, হোটেলের কাস্টমার দেবকুমার নায়েককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। ওই হোটেল থেকে উদ্ধার দুই নাবালিকাকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার সরকারি আইনজীবী বলেন, অভিযুক্ত লিস্টে মোট পাঁচজন ছিল। তাদের মধ্যে হোটেল মালিক ও ম্যানেজার ছাড়াও তিনজন খদ্দের ছিল। কোর্ট দুই খদ্দেরকে মামলা থেকে রেহাই দিয়ে তিনজনের সাজা ঘোষণা করেছে। সিআইডি এই অভিযানে শামিল হয়েছিল। তারা মহিষাদল থানায় এফআইআর করেছিল।
২০১৩সালে ২৩এপ্রিল কলকাতা থেকে সিআইডির একটি টিম মহিষাদলে কাঞ্চনপুর জালপাই গ্রামে জাতীয় সড়ক লাগোয়া একটি হোটেলে হানা দেয়। ওই হোটেলে অন্য জেলার নাবালিকাকে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানো হত বলে অভিযোগ ছিল। অভিযান চলাকালীন হাওড়া এবং উত্তর ২৪পরগনার ১৬বছরের দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজন খদ্দেরকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। হোটেলের মালিক ও ম্যানেজার মাঠ দিয়ে ছুটে পালিয়ে যায়। সিআইডি এনিয়ে মহিষাদল থানায় এফআইআর করে। পাঁচজনের বিরুদ্ধে পূর্ব মেদিনীপুর পকসো আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি।
১৩ বছরের পুরনো সেই মামলায় শুরুতে সৌমেন দত্ত সরকারি আইনজীবী ছিলেন। তারপর তাঁর জায়গায় অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও পুনরায় সৌমেনবাবুকে কেসের দায়িত্বে আনা হয়। মোট ২৩জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ৭আগস্ট আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সোমবার হোটেল মালিক ও ম্যানেজারকে যাবজ্জীবন ও খদ্দেরকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
১৩বছর আগে সিআইডির সেই অভিযানে সঙ্গী হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন এবং একটি এনজিও। সিআইডির ইন্সপেক্টর স্বপন ভৌমিকের নেতৃত্বে সেই অভিযানে নানা আপত্তিকর সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়। ওই অভিযান থেকে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে। হাওড়া, উত্তর ২৪পরগনা থেকে নাবালিকাদের এনে মহিষাদলে দেহ ব্যবসায় লাগানো হত। নানা উপায়ে তাদের যৌন চাহিদা বাড়ানো হত। কখনও প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে আবার কখনও পাচার হওয়া নাবালিকাদের ঠাঁই মিলত মহিষাদলে ওই অন্ধকার জগতে। সেইসব নাবালিকাদের আটকে রেধে কাস্টমারদের সার্ভিস দিতে বাধ্য করা হত। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইমমোরাল ট্রাফিক(প্রিভেনশন) অ্যাক্ট সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়। ১৩বছর ধরে চলা সেই মামলায় সোমবার সাজা ঘোষণা করল আদালত।