Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বার্ধক্য ভাতায় লাইফ সার্টিফিকেট আবশ্যিক, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্পে নয়া নিয়ম প্রবীণদের জন্য

প্রবীণদের সরকারি ভাতার ক্ষেত্রেও এবার পেনশনের নিয়ম চালু হতে চলেছে। বার্ধক্যভাতা পেতে গেলে জমা করতে হবে লাইফ সার্টিফিকেট।

বার্ধক্য ভাতায় লাইফ সার্টিফিকেট আবশ্যিক, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্পে নয়া নিয়ম প্রবীণদের জন্য
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: প্রবীণদের সরকারি ভাতার ক্ষেত্রেও এবার পেনশনের নিয়ম চালু হতে চলেছে। বার্ধক্যভাতা পেতে গেলে জমা করতে হবে লাইফ সার্টিফিকেট। কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’-এর (এনএসএপি) অধীনে বার্ধক্যভাতা দেওয়া হয়। এর জন্য যৎসামান্য টাকা দেয় কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গে ‘জয় বাংলা’ প্রকল্পের অধীনে বৃদ্ধ, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম এক কোটির বেশি উপভোক্তাকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এর মধ্যে বার্ধক্যভাতা প্রাপকের সংখ্যা ২০ লক্ষ ৫০ হাজার। এই উপভোক্তাদেরই প্রতি বছর লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করতে চলেছে দিল্লি। অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, কোনও ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নিয়ম খুব একটা শোনা যায়নি। 

Advertisement

৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে থাকা প্রবীণ উপভোক্তারা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা পান। তার মধ্যে মাত্র  ৩০০ টাকা দেয় মোদি সরকার। বাকি ৭০০ টাকাই দিতে হয় রাজ্যকে। ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য ৫০ শতাংশ অর্থই দেয় রাজ্য। সম্প্রতি দিল্লিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রের আধিকারিকরা এসএসএপি নিয়ে রাজ্যের সুখ্যাতি করেছেন বলেই খবর। সূত্রের খবর, সেখানেই প্রথম একটি অ্যাপের কথা সামনে আনে কেন্দ্র। এই অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে। দক্ষিণের একটি রাজ্য এবং প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডে এই উদ্যোগের ‘পাইলট প্রজেক্ট’ চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। শীঘ্রই গোটা দেশে নতুন এই নিয়ম চালু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এনএসএপির আওতার বাইরে সম্পূর্ণ নিজের খরচে অনেককে বার্ধক্য ভাতা দেয় রাজ্য। তাঁদের ক্ষেত্রে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কোনও বিষয় থাকছে না বলেই খবর। 
বর্তমানে প্রতি বছর এনএসএপি প্রকল্পের আওতায় বার্ধক্য ভাতা প্রাপকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের কাজ করতে হয়। গত বছরই বাংলায় নতুন করে ১ লক্ষ ৩০ হাজার উপভোক্তাকে এই প্রকল্লের আওতায় আনা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ যাচাইয়ের কাজ ঠিকমতো করে না বলে কেন্দ্র দাবি করলেও দেখা যাচ্ছে, অন্য একাধিক রাজ্যে একজন উপভোক্তার মৃত্যুর সাত-আট মাস পরও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে মাসে বার্ধক্য ভাতা ঢোকা বন্ধ হয়নি। এই অবস্থায় নয়া নিয়মের ভাল- খারাপ দু’টি দিকই রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভালোর দিকটি হল, এর ফলে ভুলবশত টাকা অ্যাকাউন্টে যাওয়া বন্ধ হবে। আর সমস্যা হল, ফি-বছর অনলাইনে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বয়স্কদের জন্য বেশ ঝক্কির ব্যাপার। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র রাজ্যকেই কর্মী পাঠিয়ে প্রবীণদের সাহায্য করার নির্দেশ দিতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। 

সম্পর্কিত সংবাদ