নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুধু দেশি নয়, নামীদামি কোম্পানির তৈরি বন্দুকও বিক্রি করতেন রহড়ার অস্ত্র ভাণ্ডারের মালিক মধুসূদন মুখেপাধ্যায় ওরফে লিটন। তাঁর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র দেখে তাজ্জব পুলিস কর্তারাও। তারমধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকও রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিস কর্তারা জেনেছেন, ওইসব অস্ত্র ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখে দুষ্কৃতীদের তিনি বিক্রি করতেন। কিন্তু এইসব অস্ত্র কী কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকে কিনতেন, নাকি কোনও এজেন্ট মারফত তাঁর কাছে এসেছিল, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মধুসূদনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ১৪টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির বন্দুকের মধ্যে দেশি অস্ত্র রয়েছে ছ’টি। তার মধ্যে দু’টি সেভেন এমএম, একটি নাইন এমএম ও তিনটি সিঙ্গল শর্টার গান। বাকি অস্ত্রের মধ্যে তিনটি রিভলবার, একটি পাম্প অ্যাকশন গান, একটি বোল্ট অ্যাকশন রাইফেল, দু'টি ডিবিবিএল বন্দুক সহ মোট ন'টি বন্দুক নামীদামি কোম্পানির তৈরি। অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে, এমন ব্যক্তিরাই তা কেনে। ওইসব অস্ত্র বিক্রি হয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকে। দেশি অস্ত্রগুলোর ফিনিশিং দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত, মুঙ্গেরের অস্ত্র ছাড়া, এত নিখুঁত কাজ দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু ওই নামী কোম্পানির কোম্পানির তৈরি অস্ত্র তাঁর কাছে কীভাবে এল, সেটাই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। এরসঙ্গে অস্ত্র বিক্রি করা লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের যোগ রয়েছে কি না, থাকলে তা কোন রাজ্যের, এমন নানান বিষয় জানার চেষ্টা চলছে। তবে প্রাথমিক জেরায় লিটন জানিয়েছেন, ওই অস্ত্র এজেন্ট মারফত তিনি পেয়েছেন। এই কথা সত্যি, নাকি পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে বলছেন, তা গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। ধৃতের বাড়ি থেকে পুলিস একটি এটিএম কার্ড সোয়াইপ মেশিনও পেয়েছে। বড় বড় অস্ত্র ডিলের ক্ষেত্রে লিটন তাঁর অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা নিতেন। এই টাকার লেনদেন নিজের ফ্ল্যাটে বসেই করতেন। আবার কোনও কোনও সময় ডেলিভারি পর্বে সোয়াইপ মেশিন নিয়ে ক্রেতাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে যেতেন লিটন। অস্ত্রের এই কারবার যে লিটনের একার পক্ষে চালানো সম্ভব নয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। কারবারের সেই সহযোগীদের খোঁজ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, পুলিসের নজর এড়াতে বহু সময় অন্যের অ্যাকাউন্টেও লেনদেন করেছেন এই অস্ত্র কারবারি। কোন কোন অ্যাকাউন্ট মারফত অস্ত্র বিক্রির লেনদেন হয়েছে, কারা টাকা দিয়ে অস্ত্র কিনেছে, ফ্ল্যাট কেনার টাকা বিক্রি থেকে উপার্জিত কি না, এমন নানান বিষয় তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পুলিস কমিশনার মুরলিধর শর্মা বলেন, অনেক ক্লু হাতে এসেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।