সারের সঙ্গে ট্যাগ কিনতে বাধ্য করলেই লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: সারের সঙ্গে অণুখাদ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। সেকারণে এবার রবি মরশুমেও কৃষিদপ্তর রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালাবে। সারের সঙ্গে ট্যাগ বা অণুখাদ্য কিনতে বাধ্য করা হলে সেই বিক্রেতার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে। সোমবার কাটোয়ায় এসে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। মন্ত্রী বলেন, সার প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে বিক্রেতা প্রত্যেকের লভ্যাংশ থাকে ব্যবসায়। কিন্তু চাষিদের গলায় বাঁশ দিয়ে লাভ করার প্রবণতা ঠেকাতে হবে। তা না হলে বিক্রেতাকে বিপদে পড়তে হবে।

Advertisement

দীপাবলির পরই জোরকদমে আলু চাষ শুরু হয়ে যাবে। আলু, ডালশস্য চাষের জন্য এখন থেকেই চাষিরা রাসায়নিক সার সংগ্রহ করছেন। গত খারিফ মরশুমে জেলায় জেলায় সারের দোকানে হানা দিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী। তাছাড়া দপ্তরের অফিসাররা অভিযান চালিয়েছিলেন। চাষিদের অভিযোগ ছিল, অনুখাদ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছিল। সেইসময় রাজ্যের বহু বিক্রেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। চাষিদের অণুখাদ্য কিনতে বাধ্য করায় কাটোয়া মহকুমাজুড়ে বেশ কয়েকজন সার বিক্রেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। এবার রবি মরশুমেও রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হবে। এদিন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমারবাবু বলেন, এই মুহূর্তে রাজ্যে সারের কোনো ঘাটতি নেই। আমরা অণুখাদ্যের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি। এটা যাঁরা করছেন তাঁরা বিপদে পড়বেন। আসলে তাঁরা পুরানো অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। আমরা কয়েক মাস হল সরকারে এসেছি। ধীরে ধীরে সব বদলে যাবে। চাষিদেরও বলব রসিদ নিয়ে সার কিনবেন। তাহলে আমরা সেই বিক্রেতাকে ধরতে পারব।
পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৭০-৭২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। জ্যোতি, চন্দ্রমুখী ও পোখরাজ এই তিন জাতের আলু চাষ হয়। যদিও এরমধ্যে জ্যোতি আলু বেশি চাষ হয়। গতবছর ডিএপি, পটাশ, ১০:২৬:২৬ এসব সারের দাম নির্ধারিত মূল্যের থেকেও বস্তাপ্রতি ২০০টাকা বেশি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তার উপর চাষিদের অণুখাদ্য কিনতে বাধ্য করা হয়েছিল। এবারও তেমন অভিযোগ ওঠা শুরু হয়েছে। মঙ্গলকোটের এক সার বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্লক কৃষিদপ্তরে কয়েক সপ্তাহ আগেই লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন এক চাষি। এমনকী, কাটোয়ার বেশকিছু চাষি বলছেন, সারের দোকান গেলেই অণুখাদ্য নেওয়ার শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনিতে আলু চাষে সেরকম লাভ থাকে না। তার উপর অণুখাদ্য নিয়ে সার কিনতে গেলে আমরা শেষ হয়ে যাব। চাষের খরচটুকুও উঠবে না। 
এদিন মন্ত্রী কাটোয়া শ্মশানঘাটে মা শ্মশানকালী মন্দির দর্শনে এসেছিলেন। পাশাপাশি কাটোয়া ভারতী ভবন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরএসএসের প্রশিক্ষণ বর্গেও যান মন্ত্রী।