প্রিয় শিশুরা,
প্রিয় শিশুরা,
আমি তোমাদের সঙ্গে একটি বিশেষ কথা ভাগ করে নিতে চাই। জানাতে চাই, যখন আমি তোমাদের বয়সি ছিলাম, তখন বইকে কতটা ভালোবাসতাম! অবশ্যই, তখন ইন্টারনেট বা টেলিভিশন কিছুই ছিল না। আমরা সবকিছু ছাপানো বই থেকেই শিখতাম।
যখন আমি ছোট ছিলাম, আমাদের পরিবারে তেমন টাকা-পয়সা ছিল না। তাই নতুন বই কেনার সামর্থ্য ছিল না। ফলে আমার পড়ার বেশিরভাগ বই লাইব্রেরি থেকেই আসত। তবে এর বাইরেও আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম একটি খুব ছোট পুরনো বইয়ের দোকানে। সেই দোকানের মালিক ছিলেন একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক, যিনি কখনওই বইগুলি ঠিকমতো গুছিয়ে রাখার সময় পেতেন না। আমি সেখানেই বসে পড়তাম। জন্মদিনে উপহার হিসেবে পাওয়া টাকা জমিয়ে রাখতাম শুধু একটি বই কেনার জন্য।
আমি বিছানায় শুয়ে বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসতাম। আর যখন আলো নিভিয়ে দিতে হতো, তখন চাদরের নীচে টর্চ জ্বালিয়ে পড়তাম। শীতের সন্ধ্যায় আমি আগুনের সামনে কুঁকড়ে বসে পড়তাম। আর গ্রীষ্মকালে আমার প্রিয় বইগুলি নিয়ে উঠে পড়তাম বাগানের আমার সবচেয়ে প্রিয় গাছটিতে। সেখানে বসে আমি দূর-দূরান্তের গল্প পড়তাম এবং কল্পনা করতাম আমি সত্যিই
সেখানে আছি।
আমি বিশেষ করে ডক্টর ডুলিটলের গল্প পড়তে খুব ভালোবাসতাম, যিনি কীভাবে প্রাণীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় শিখিয়েছিলেন। টারজান অব দ্য অ্যাপস-এর গল্পও আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। আর যত বই ঘাঁটতাম, তত বেশি পড়তে চাইতাম।
আমার বয়স যখন মাত্র ১০ বছর, তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বড় হয়ে আমি আফ্রিকায় যাব। প্রাণীদের সঙ্গে থাকব এবং তাদের নিয়ে বই লিখব। আর শেষ পর্যন্ত আমি সেটাই করেছি! আমি আফ্রিকার শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে জীবন কাটিয়েছি এবং এখনও তাদের ও অন্যান্য প্রাণী সম্পর্কে বই লিখছি। সত্যি বলতে, বই লিখতে যেমন ভালোবাসি, ঠিক তেমনই বই পড়তে ভালোবাসি। আশা করি, তোমরা আমার লেখা কিছু বই পড়েও
আনন্দ পাবে।
—জেন গুডঅল
(‘অ্যা ভেলোসিটি অব বিয়িং: লেটারস টু অ্যা ইয়াং রিডার’ বইটিতে জেন গুডঅল তাঁর শৈশবের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন)