নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ-খুন হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়া অভয়ার মৃত্যু রহসের কিনারা করতে নতুন করে সিট গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। আর এই পর্বেই নতুন নতুন অভিযোগে এই খুনের কাণ্ড আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার পরিবার একটি চিঠি নিয়ে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হন। বেলগাছিয়ার রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর ওই চিঠি সিবিআই যাতে তদন্তের আওয়াতায় আনে, তার দাবি জানায় অভয়ার পরিবার। ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, সিএফএসএলে পাঠানোর আগে রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবের তিন আধিকারিক অভয়ার ভিসেরার নমুনা পরিবর্তন করে দিয়েছে। অভিযোগ, এই পরিবর্তন করা হয়েছে পূর্বতন সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর নির্দেশে। ওই চিঠি আগে তাঁরা সিবিআইকে দিলেও, তা সঠিক ভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়নি বলে অভয়ার পরিবারের অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে ও ২৩ মে বেলগাছিয়া রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পরপর দুটি চিঠি পাঠান অভয়ার পানিহাটির বাড়িতে। সেই চিঠিতে বলা হয়, ফরেন্সিক বিশ্লেষণের জন্য আপনার কন্যার যে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা সিবিআই ও কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর আগে বেলগাছিয়া রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই ল্যাবরেটরির তিন আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে বলা হয় তাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা এই কাজ করেছিলেন সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর নির্দেশে। নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর দেবনাথ বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তাঁরা বিচারকের কাছে দাবি জানান, ওই চিঠি তদন্তের আওতায় আনতে সিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হোক। নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী অমর্ত্য দে এনিয়ে আদালতে জোরাল সওয়াল করেন। তাঁর আবেদন, এই চিঠিকে সিবিআই তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দিক আদালত।
এদিন নির্যাতিতার বাবা শেখরবাবু বলেন, গত মে মাসে আমরা ওই চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিবিআই-কে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। সাত দিন পরে ফের একই চিঠি আসে। তাতে লেখা আছে, ভিসেরা রিপোর্ট বিকৃত করা হয়েছে। কারা করেছে, কার নির্দেশে করা হয়েছে, সব লেখা আছে। সিবিআই’কে জানিয়েছি। বিধায়ক রত্নাদেবী বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, আমার মেয়ের ভিসেরার যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায় আট দিন সেই নমুনা খোলা জায়গায় পড়ে ছিল, ঠিকভাবে সংরক্ষণও করা হয়নি। যারা নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁদের হাতেও গ্লাভস ছিল না। এরপর জানলাম ফরেন্সিক নমুনা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিবিআই তা খতিয়ে দেখছে না। তিনি আরও বলেন, সঞ্জয় রায় একা অপরাধী নয়। আরও অনেক অপরাধী ওই কলেজের মধ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, চিকিৎসক দিবসের এক অনুষ্ঠানে এসে বুধবার রত্নাদেবী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব কথা রেখেছেন। কিন্তু উনি বলেছিলেন, সাত দিনের মধ্যে বিচার দেবেন। সেটা আজ প্রায় ২ মাস অতিক্রান্ত। নতুন সরকারের উপর আস্থা রয়েছে। সমস্ত অপরাধীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে!